ইরাকে বিমান হামলা নিয়ে মার্কিন সরকার মিথ্যা কথা বলছে উল্লেখ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে।
শুক্রবারের ওই হামলাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে নতুন আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে বাগদাদ। খবর প্রেসটিভির।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল-সুদানির দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলার বিষয়ে বাগদাদ সরকার কিছুই জানে না, যুক্তরাষ্ট্র যে সমন্বয়ের কথা বলছে তা ডাহা মিথ্যা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় ইরাকে ১৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের কারণে ইরাকের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ইরাকের সামনে এখন ন্যায্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইরাকি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া রসুল আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই বিমান হামলাগুলো ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন করেছে। ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে এবং এমন একটি হুমকি তৈরি করেছে যা ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এর আগে ২৮ জানুয়ারি জর্ডানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে সিরিয়া ও ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত ও ৪০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়।
এর পর শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক ও সিরিয়ায় ৮৫টির বেশি স্থানে হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিলো সিরিয়ার চারটি এবং ইরাকের তিনটি এলাকা।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বলেন, আজ থেকে আমাদের জবাব দেওয়া শুরু হয়েছে। এটি আমাদের পছন্দমতো বিভিন্ন সময় ও স্থানে চলতে থাকবে।
গত সাত অক্টোবর গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরাক, সিরিয়া এবং জর্ডানে ১৬০ বারেরও বেশি আক্রমণ করেছে।