‘স্লিপ ডিভোর্স’ নামে অদ্ভুত এক ট্রেন্ড চালু হয়েছে লন্ডনের কিছু দম্পতির মাঝে। বিবাহ কিংবা সম্পর্কের বিচ্ছেদ ছাড়াই একই ছাদের নিচে আলাদা ঘরে ঘুমানোর এই ট্রেন্ডই হচ্ছে স্লিপ ডিভোর্স।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিসিলিয়া নামে এক নারী জানান, করোনার মহামারির পর থেকে সঙ্গীর নাক ডাকার শব্দ এতটা অসহ্য লাগতো যে, কিছুতেই ঘুমাতে পারতেন না সিসিলিয়া। তিনি সঙ্গীকে বারবার ধাক্কা দেন, যেন নাক ডাকা বন্ধ করে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয় না।
তারপর তারা যৌথ সিদ্ধান্ত নেন যে, সম্পর্কের বিচ্ছেদ ছাড়াই তারা আলাদা ঘরে ঘুমাবেন। এতে তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, নাক ডাকার শব্দে আগে কম ঘুম হত। সারাদিন ক্লান্তিতে অবসাদগ্রস্ত থাকতেন। কাজে ঠিকমত মন দিতে পারতেন না। কেননা নাক ডাকার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত দুই একদিন সহ্য হবে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদি সময়ের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, এটা সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণও হতে পারত।
তাদের এই যৌথ সিদ্ধান্ত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কাজে আগের থেকে বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন।
গত কয়েক বছর ধরেই লন্ডনের ওই বাড়িতেই তাদের বসবাস।
তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য খুব সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিলো না। এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমাদের হৃদয় চুরমার হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু যখন আমরা অনুধাবন করলাম যে রাতে ঘুমাতে পারছি, তখন খুশি হয়েছি।
সেই থেকে সিসিলিয়া এবং তার ৪৩ বছর বয়সী সঙ্গী ‘স্লিপ ডিভোর্স’ নামক ট্রেন্ডকে অনুসরণ করা শুরু করেন।
গত বছরের শেষের দিকে জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী ক্যামেরন ডিয়াজ ‘লিপস্টিক অন দ্য রিম পডকাস্ট’কে বলেন যে তিনি এবং তার স্বামী একই ঘরে ঘুমান না।
তিনি বলেন, আমি মনে করি যে আলাদা শয়নকক্ষে ঘুমানোর বিষয়টিকে আমাদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা উচিত।
অ্যামেরিকান অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য তারা মাঝে মাঝে বা প্রায় প্রতিদিনিই সঙ্গী থেকে আলাদা ঘরে ঘুমায়।