দখলদার ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও নিরবচ্ছিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ টানেল ব্যবস্থা এখনও অক্ষত আছে। অন্যদিকে উত্তর গাজায় অন্তত পাঁচ হাজার হামাস যোদ্ধা তৎপর রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস।
ওই কর্মকর্তা জানান, এখনও হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা ভূপৃষ্ঠের ওপরে এবং ভূগর্ভে থেকে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। উত্তর গাজায় এখনও অন্তত পাঁচ হাজার হামাস যোদ্ধা তৎপর রয়েছেন।
যদিও ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট দুই মাস আগে দাবি করেছিলেন, উত্তর গাজায় হামাস পরাজিত হয়েছে এবং ইসরাইলি সেনারা সেখানকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

এদিকে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে এক প্রতিবেদনে বলছে, গাজার সর্ব-দক্ষিণের শহর রাফাতে স্থল অভিযান শুরু করার তারিখ নিয়ে ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী গ্যালান্টের সঙ্গে আরেক মন্ত্রী বেনি গান্তজের মতপার্থক্য চলছে।
আরও বলা হয়েছে, গেলো সাড়ে চারমাসে উত্তর ও মধ্য গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি রাফা শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে গাজার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ গাজাবাসী রাফায় অবস্থান করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ইসরাইলি গণহত্যার প্রধান সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রও রাফা শহরে স্থল অভিযান চালানোর ব্যাপারে নেতানিয়াহু সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে।

জানা গেছে, গাজার হামাস সরকার ২০০০ সালের পর থেকে গাজার মাটির নিচে টানেল বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। যাকে ইসরাইল বলছে ‘গাজা মেট্রো’, কারণ মনে করা হয়, এটা এমন একটি এলাকার নিচে বিস্তৃত, যা লম্বায় প্রায় ৪১ কিলোমিটার আর প্রস্থে ১০ কিলোমিটার।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে আর্থ এবং সামরিক সহায়তা পেয়েছে তারা। এর সঙ্গে সহায়তা করছে লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো দলগুলোও। বাইরে থেকে অস্ত্র আমদানি করা হামাসের জন্য কঠিন কাজ ছিলো। সে কারণে গত ৯ বছর ধরে স্থানীয়ভাবেই অস্ত্র তৈরি করেছে তারা। যার অধিকাংশই তৈরি করা হয়েছে এসব টানেলে বসেই।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল।
এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়াও আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
