ফিনল্যান্ড-ইউক্রেনের মধ্যে দশ বছরের নিরাপত্তা চুক্তি সই

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ফিনল্যান্ডের সাথে দশ বছরের নিরাপত্তা চুক্তি সই করেছে ইউক্রেন। এই চুক্তির আওতায় দেশ দু'টি নিরাপত্তা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়বে। 

বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ফিনিশ প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব এই চুক্তিতে সই করেন। খবর টিভিপি ওয়ার্ল্ড ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। 

ফিনিশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো ফিনল্যান্ড, নতুন এ চুক্তি সেই প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

স্টাব বলেন, আরেকটি সহযোগিতা প্যাকেজের আওতায় ইউক্রেনকে প্রায় ১৯ কোটি ইউরোর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে ফিনল্যান্ড। ফলে দেশটির সহযোগিতা দাঁড়াবে প্রায় ২০০ কোটি ইউরোতে।

এই চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়বে হেলসিঙ্কি-কিয়েভ। এছাড়াও ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনে সহযোগিতা করবে ফিনল্যান্ড। 

এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানায় রাশিয়ার প্রতিবেশি দেশ ফিনল্যান্ড। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে চলতি বছরের শুরুর দিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেয় দেশটি।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের জেরে রাশিয়ার সঙ্গে স্থল সীমান্তও বন্ধ করে দেয় ফিনল্যান্ড।

ফিনল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার প্রায় ১৩৪০ কিলোমিটার সীমানা রয়েছে। ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেয়ার এ সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি রাশিয়া।

অন্যদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পেছনে অন্যতম একটি কারণ ছিলো রুশ সীমান্তের দিকে ন্যাটো জোটের সম্প্রসারণ। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, হেলসিঙ্কি-কিয়েভের এ চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে পুতিন প্রশাসন। ন্যাটো সামরিক জোটকে কোনোভাবেই রুশ সীমান্তে ভিড়তে দিতে চাইবে না মস্কো।