ইসরাইলে হামলা হলে তাৎক্ষণিক জবাব: নেতানিয়াহু

দখলদার ইসরাইলি বাহিনী এখনও গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলছেন, সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তেল আবিব।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্য ইসরাইলের একটি বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করার সময় এসব কথা বলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।  

নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের কেউ ক্ষতি করলে, আমরাও তাদের ক্ষতি করবো।

ইসরাইল নিজদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। তবে তেল আবিব ইরানের হামলা ঠেকাতে ঠিক কী ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি এ জায়নবাদী নেতা। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ইসরাইলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দারা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইলের মাটিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে তেল আবিব প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো বলছে, ইতোমধ্যে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো জায়গায় ইসরাইলি স্বার্থে আঘাত হানতে পারে ইরান। এ নিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

তবে ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তেহরান ইসরাইলে হামলার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। 

এর আগে ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে হত্যা করে ইসরাইল।  

তেহরান ওই হামলার প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেয়ার পরপরই ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের কমব্যাট ইউনিটের ছুটি বাতিল করেছে। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে ইসরাইলের বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এমনকি তলব করা হয়েছে রিজার্ভ সেনাদের। 

এছাড়াও হামলার ভয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দূতাবাসগুলো খালি করতে শুরু করেছে ইসরাইল। এরইমধ্যে কমপক্ষে ২৮টি দূতাবাস বা কনস্যুলেট অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।  

গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। আর এ গনহত্যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে দ্বন্দ্ব জড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরশত্রু ইরান-ইসরাইল।