ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেয়া হবে সে ব্যাপারে ইসরাইল নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরাইলকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও ইরানে হামলার সিদ্ধান্তে এখনো অনড় তেল আবিব।
ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ইসরাইল সফর করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্নালেনা বায়েরবক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষার সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, ইসরাইলকে রক্ষায় বন্ধুদেশগুলো আমাদের পাশে থাকবে। শুধু কথায় নয়, কাজেই সেই প্রমাণ দেবে। তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা এবং পরামর্শ দিচ্ছে। তবে আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আমাদের সিদ্ধান্ত আমরাই নেবো। ইসরাইল নিজেদের সুরক্ষায় সব কিছু করবে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, অ্যানালেনা বেয়ারবক ও ডেভিড ক্যামেরনকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, আমি এটি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা নিজেরাই নেব। নিজেকে রক্ষার জন্য ইসরাইল রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে, জার্মান ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন নেতানিয়াহু। তারা উভয়েই ইসরাইল সফরে যান। দেশটিতে ইরানের হামলার পরপরই এই সফর করেন তারা। সফরে গাজায় চলমান যুদ্ধের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এই সংঘাত যাতে একটি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ না নেয় এ বিষয়ে জোর দেন তারা।
ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে বুধবার আবারো বৈঠক করেছে ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। বৈঠকে ইরানের হামলার জবাব দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে হামলার কৌশল এখনো চূড়ান্ত করেনি এই মন্ত্রিসভা।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে সন্দেহভাজন ইসরাইলি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ১ এপ্রিল দেশটিতে পাল্টা হামলা করে ইরান। তবে বেশিরভাগ মিসাইল ও ড্রোনগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসরাইল এবং তার মিত্ররা। এই হামলায় হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
তবে ইসরাইল অবশ্যই ইরানের করা এই হামলার প্রতিশোধ নেবে বলে জানিয়েছে। ইসরাইলের এমন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হুমকি দিতে পিছপা হয়নি ইরান। ইসরাইল কোনও প্রকার হামলা করলে এর প্রতিশোধ হিসেবে আবারও হামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি, আর সেই হামলা হবে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ।