মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও স্নায়ুযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করে এবং সংঘর্ষের যুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। অন্যদিকে রাশিয়া-চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বিশৃঙ্খল এই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক বলে মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের শি জিনপিং।
বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এ দুই নেতার বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বাইডেন সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও স্নায়ুযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করে এবং সংঘর্ষের যুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। একইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার চেয়ে 'সংকীর্ণ গোষ্ঠী'র নিরাপত্তাকে ঊর্ধ্বে রাখে ওয়াশিংটন, যা এই অঞ্চলের সমস্ত দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে। দেশটিকে এই আচরণ ত্যাগ করতে হবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিআরআই জানায়, বৈঠকে শি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব এক শতাব্দীতে অদেখা গভীর পরিবর্তনের সম্মুখীন হচ্ছে এবং নতুন সংঘাতময় পরিবর্তনের সময়কালে প্রবেশ করছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিসি’র নেতৃত্বে চীনা জনগণ বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, উচ্চমানের উন্নয়ন ও চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকায়ন বেগবান করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঐক্য ও সহযোগিতা জোরদার করে, বিশ্ব প্রশাসনকে সঠিক দিকে পরিচালিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার রক্ষা করতে এবং বিশ্ব শান্তি ও অভিন্ন উন্নয়ন বেগবান করতে ইচ্ছুক।
এসময় পুতিন বলেন, চীনের উন্নয়ন অপ্রতিরোধ্য। রাশিয়া, চীন এবং দক্ষিণের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করে আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার বাড়িয়ে আরও সম ও বহুমেরুর পৃথিবী প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
এছাড়া দুই রাষ্ট্রপ্রধান ইউক্রেন সংকট নিয়েও মতবিনিময় করেছেন।
ইউক্রেন সংকট সমাধানে চীনের প্রচেষ্টা ব্যাখ্যা করে শি বলেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানের মূলনীতি হলো সুষম, কার্যকর ও টেকসই নতুন নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। চীন সময়োচিত, রাশিয়া ও ইউক্রেন দু’পক্ষের স্বীকৃত, বিভিন্ন পক্ষের সমানভাবে অংশগ্রহণ করা, ন্যায়সঙ্গতভাবে সকল পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার আন্তর্জাতিক শান্তি বৈঠক আয়োজনকে সমর্থন দেয় এবং এ ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়।
প্রতিক্রিয়ায় পুতিন রাশিয়ার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং ইউক্রেন বিষয়ে চীনের অবস্থানের প্রশংসা করেন। এ সমস্যা সমাধানের জন্য চীনের অব্যাহতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গঠনমূলক ভূমিকা পালনকে স্বাগত জানান।
শুক্রবার চীনের ঐতিহাসিক শহর হারবিনে দুটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে পুতিনের। সেই সঙ্গে সেখানে একটি বরফ উৎসবেও যোগ দেবেন তিনি।
গেলো মার্চ মাসে পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ছিলো পুতিনের প্রথম চীন সফর। আর ছয় মাসের মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় সফর।
এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার কারণে পশ্চিমাদের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে মস্কো।
এমন পরিস্থিতিতে একই বছর চীন এবং রাশিয়া দুই দেশের 'সীমাহীন' অংশীদারিত্ব ঘোষণা করে। তারপর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে বেইজিং।
তবে চীন-রাশিয়ার এ সীমাহীন অংশীদারিত্বকে হুমকি হিসেবে দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে চীন যাতে রাশিয়াকে সমর্থন না দেয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। কিন্তু পিছু হটেনি বেইজিং।
বাইডেন সরকার উভয় দেশের সরকারকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি'কে স্বৈরশাসক এবং পুতিনকে একজন হত্যাকারী ও পাগল আখ্যা দিয়েছেন।
এমন মন্তব্যের জন্য বেইজিং এবং মস্কো বাইডেনকে তিরস্কার করেছে।