গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হামলা শুরুর পর থেকে সারাবিশ্বের চোখ যখন এই শহরে, ঠিক তখনই সরাসরি গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিকি হ্যালি।
সাবেক এ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ইসরাইল সফরে গিয়ে মঙ্গলবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে রাখা কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটির গায়ে নিজের নাম সই করেছেন। এসময় ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে তিনি একটি বার্তাও লিখে দেন। বার্তাটি হলো- ‘তাদের শেষ করে দাও। আমেরিকা সবসময় ইসরাইলকে ভালোবাসে।’
সামাজিক মাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশের পরপরই জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এ প্রতিনিধিকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক বাধে। নিকি হ্যালির এ পদক্ষেপ ‘গণহত্যার প্ররোচনা’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন অ্যাক্টিভিস্টরা।
এমনকি গণহত্যার প্ররোচনার দায়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসে (আইসিজে) নিকি হ্যালি বিচারের দাবিও জানিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্টরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন হ্যালি ছিলেন তার প্রশাসনের অন্যতম কট্টর ইসরাইলি সমর্থক এবং জাতিসংঘে তিনি নানাভাবে ইসরাইলের নানা অপকর্মের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।
মার্কিন ইহুদিবাদী লবি থেকে যারা মোটা অঙ্কের আর্থিক সাহায্য পান নিকি তাদের একজন।
এদিন ইসরাইল সফরে গিয়ে ইরান, রাশিয়া ও চীনের সমালোচনা করে নিকি বলেন, ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের অভিযানের জন্য এই তিন দেশ দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রেও ৭ অক্টোবরের মতো আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা যদি যথেষ্ট অহংকারী হই, এই ধরনের আক্রমণ আমেরিকাতেও ঘটতে পারে।
নিকি বলেন, ৭ অক্টোবর ইরানের সমন্বয়ে ইসরাইলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। এতে সহায়তা করেছিল রুশ গোয়েন্দারা। আর চীন এতে ইন্ধন যুগিয়েছে অর্থের মাধ্যমে। যা অস্বীকার করা যাবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলিদের এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইরান।
তেহরান বলছে, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে দখলদার ইসরাইল। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন করতে সংগ্রাম করছে হামাস। ইরান সবসময় ফিলিস্তিনিদের পাশে ছিলো এবং থাকবে।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। আহতের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে।