ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশটির শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নামার ঘটনায় নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে দায়ী করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে শেয়ার বাজার ধসের এ ঘটনাকে 'সবচেয়ে বড় স্টক মার্কেট কেলেঙ্কারি' আখ্যা দেন এ কংগ্রেস নেতা।
ধসের ফলে শেয়ার বাজারের খুচরা বিনিয়োগকারীরা ৩০ লাখ কোটি রুপি হারিয়েছেন দাবি করে রাহুল বলেন, কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিতে পারেন?
তিনি আরও বলেন, এই প্রথম আমরা দেখলাম নির্বাচন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মিলে শেয়ার বাজার নিয়ে মন্তব্য করলেন। প্রধানমন্ত্রী চারবার দেশকে বললেন, শেয়ার বাজারের তেজি উত্থান হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ৪ জুন থেকে স্টক মার্কেট উপরে যাবে, বিনিয়োগকারীদের এখনই শেয়ার কিনে রাখা উচিত।
১ জুন অসত্য বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করার অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, বিজেপির অফিসিয়াল সার্ভে ছিলো, ২২০টির বেশি আসন পাবে না বিজেপি। এই তথ্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও ছিলো। ৩ জুন শেয়ার বাজারের এত উত্থান হলো যে, সব রেকর্ড ভেঙে গেলো। এরপর ৪ জুন রেজাল্ট বেরতেই শেয়ার বাজারে বড় ধস নামল। বিনিয়োগকারীদের একদিনে ৩০ লাখ কোটি রুপি ক্ষতি হলো। ক্রনোলজিটা (ক্রমান্বয়) বুঝুন। এই যা কিছু ঘটলো, তা শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা জেপিসি চাইছি।
এর আগে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট শেষে বুথফেরত জরিপে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বড় জয়ের আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির শেয়ার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠে। কিন্তু ভোট গণনা শুরু হতেই বাজার থুবড়ে পড়ে।
মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ধস দেখা যায় শেয়ার বাজারে। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সেনসেক্স সূচক পড়ে যায় সাত শতাংশেরও বেশি। সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্ট নেমে যায় সূচক।
৭০ হাজারের স্তরে নেমে গিয়েছিল সেনসেক্স। ওই সময়ে নিফটি ৫০ সূচক নেমেছে প্রায় সাত শতাংশ। আর ২১৬০০ এর স্তরে নেমে এসেছিল নিফটি ৫০ সূচক।
সময় যতো এগিয়েছে ততই নিচে নেমেছে ভারতের শেয়ার বাজার। মঙ্গলবার লেনদেন শুরু হবার ২০ মিনিটের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা হারান কোটি কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বুথ ফেরত জরিপের প্রভাবেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিলো। কিন্তু হিসাব না মেলায় ধস নামে বাজারে।