ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। আগামী শনিবার অর্থাৎ আট জুন অনুষ্ঠিত হবে তার শপথ। বুধবার থেকে এমনই আওয়াজ চলছিল সব জায়গায়, সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরেই। তবে হঠাৎ করে কী থেকে কী যে হলো, শপথ অনুষ্ঠান নাকি পিছিয়ে যাচ্ছে!
চিন্তার ভাঁজ বিজেপি নেতাসহ দলটির সমর্থকদের। যাই হোক অবশেষে জানা গেল, একদিন পিছিয়ে ৯ তারিখ হবে মোদীর শপথ। এরপরই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন পেছালো নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠান?
ভারতীয় গণমাধ্যমের উঠে আসছে নানা রকম কানাঘুষা। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ নেতাদের দফায় দফায় বৈঠকের মধ্যে শপথ গ্রহণের নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে ।
এর আগে যেদিন শপথের দিন ঠিক করা হয়েছিলো, ঠিক সেদিনই শপথ নিয়েছিলেন মোদী। ২০১৪ সালে ভোটের ফলের ১০ দিন এবং ২০১৯ সালে সাতদিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী। আর এবার ফলাফল ঘোষণার পাঁচদিনের মধ্যে শপথ নেয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে?
তাহলে কেন এবার এতো তড়িঘড়ি করছেন নরেন্দ্র মোদী? ১৮ তম লোকসভা নির্বাচনে আগের দুইবারের মত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। ৫৪৩ আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ২৪০টি আসন। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ছিলো ২৭২ টি আসনের।
এখানেই আসল মারপ্যাঁচ। জোটসঙ্গীদের নিয়ে ৪০০ আসন পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এবার ভোটে নামে মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ। কিন্তু গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে বিজেপি এবার সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে। ৫৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ পেয়েছে ২৯২ আসন।
কিন্তু ১০ বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৭২ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩০৩ আসন পায় বিজেপি একাই। ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠনের মতো আসন পেয়েছে বিজেপি।
কিন্তু জোটে থাকা নানাজনের নানা দাবি মেনে এবার সরকার গঠন করতে হবে গত দুইবার নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়া বিজেপিকে। মোদী বুধবার পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে বলেন।
বুধবার এনডিএ জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংসহ বিজেপির বলিষ্ঠ নেতারা নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। শরিক দলগুলিকে বসানো ও বোঝানোর চেষ্টা চলছে।
ইন্ডিয়া টুড বলেছে, শুক্রবার আবার বৈঠক বসে এনডিএ নেতারা মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। এরপরই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের রূপরেখা জানানো হবে।
গত দুইবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার গঠন করায় যে দাপট দেখিয়েছেন মোদী, এবার আর তা হচ্ছে না। মোদী হয়ে পড়েছেন নির্ভরশীল। উত্তরপ্রদেশসহ বিজেপির বিভিন্ন ঘাটি হারিয়ে যাওয়ায় শরিকরা কতদিন পাশে থাকবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এনডিএ শিবিরে উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কার চোরা স্রোত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির সঙ্গে কঠিন দরকষাকষিতে নেমেছেন ভারতের রাজনীতির দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। নাইডুর টিডিপি ও নীতীশের জেডিইউয়ের সমর্থন ছাড়া বিজেপির সরকার গঠন করা অসম্ভব।
দু'দলই চায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু মন্ত্রণালয় সেই নিয়ে শেষ মুহূর্তে ভেতরে ভেতরে চলছে দেন-দরবার? নিন্দুকের কানাঘুষা এখনো হয়তো মোদীর কথায় চিড়ে ভেজেনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ এবং অন্ধ্র প্রদেশের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী তেলেগু দেশম পার্টি-টিডিপি'র চন্দ্রবাবু নাইডুর।
যদিও তাদের কাছ থেকে বুধবার লিখিত সমর্থন নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপি-জোট এনডিএ। এদিন বিকেলে নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করতে নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে বৈঠক করেন এনডিএ নেতারা। এসময়, জেডিইউ এবং টিডিপি নেতার কাছ থেকে লিখত সমর্থন নেয়া হয়।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে মোদীকে তাগাদা দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, চন্দ্রবাবু নাইডু, নীতীশ কুমার এবং জেডিইউ নেতা লল্লান সিং এবং সঞ্জয় ঝা জোটের অন্য নেতারা।
কিন্তু কংগ্রেস পুরোনো মিত্র নাইডু ও নীতীশের দাবি-দাওয়া নরেন্দ্র মোদী কতটা মেনে নিতে পারবেন তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তারপরও সব শঙ্কা মাথায় নিয়েই এখন নরেন্দ্র মোদীর একটাই অপেক্ষা আপাতত শপথটা তো হয়ে যাক, যাক না একদিন পিছিয়ে। তারপর না হয় দেখা যাবে, কীভাবে জোট সরকার চালানো যায়?
ঝোপ বুঝে কোপ মারার অপেক্ষায় কংগ্রেস
মোদীর শপথ কেন আট তারিখে, বৈদিক জ্যোতিষ কী বলছে?
সমমনা দলগুলোকে জোটে চায় ‘ইনডিয়া’
পিছিয়ে যেতে পারে নরেন্দ্র মোদীর শপথ 