ইসরাইলে ‘ডজন ডজন’ রকেট ছুড়লো হিজবুল্লাহ

রকেট ছুড়েই ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে জবাব দিলো লেবানের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার উত্তর ইসরাইলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ‘কয়েক ডজন’ রকেট নিক্ষেপ করার দাবি করেছে সংগঠনটি। হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবাননে ইসরাইলি হামলায় তাদের চার যোদ্ধা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা। একই দিনে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে আরও দুটি হামলার দাবি করেছে। 

হিজবুল্লাহ বলেছে, আমাদের যোদ্ধারা ইসরাইলের উত্তর অঞ্চলের প্রধান বিমানবন্দর ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করেছে। নাবাতিয়েহ ও শোহমরে হামলার জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের প্রধান বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটিতে চালানো এ হামলায় কাতিউশা রকেট ব্যবহার করা হয়েছে।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতিতে বলেছে, আনুমানিক ৩৫টি রকেট লেবানন থেকে ইসরায়েলের ঘাঁটিতে নিক্ষেপ করা হয়। তাদের বেশিরভাগ সফলভাবে ভূপাতিত করে হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এসব হামলার জবাব সময়মতো দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইল। 

আরেকটি আলাদা বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের চালানো হামলায় তাদের চার যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শোহমরে চালানো হামলায় এক যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে ইসরাইলি সেনা এবং তাদের অবস্থানকে নিশানা করে একটি ড্রোনসহ আরও দুটি হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরাইলের দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি। ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও তুরস্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বার্লিন ও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যুদ্ধ আরও প্রসারিত হলে ফল কী হবে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তাদের মধ্যে গত প্রায় ৯ মাসে সাত হাজার ৪০০টি পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। হিজবুল্লাহর তুলনায় ইসরাইলের হামলার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে খুব পিছিয়ে নেই হিজবুল্লাহ।

হিজুল্লাহর এক হাজার ২৫৮টি হামলায় নিহত হয়েছেন ২১ ইসরাইলি। সেই সঙ্গে তারা হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায়। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির রকেট হামলায় ইসরাইলের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের আগুন দুর্ঘটনার সূত্রপাতও হয়েছে।