লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর ব্যাপক রকেট হামলায় ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এসময় ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তেল-আবিব ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক সংবাদ বিবৃতিতে জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হোশ এলাকায় ইসরাইলের হামলায় হিজবুল্লাহর অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার মুহাম্মদ নিমাহ নাসের নিহত হন। এর জবাবে বৃহস্পতিবার অধিকৃত গোলান মালভূমির ইসরাইলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ২০০ রকেট নিক্ষেপ করে হিজবুল্লাহ। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা বিস্ফোরক ভর্তি ২০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এতেই হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তার নাম মেজর ইটাই গালেয়া। তিনি ইফতা রিজার্ভ আর্মড ব্রিগেডের ডেপুটি কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হিজবুল্লাহর রকেটের সরাসরি আঘাতে এই মেজর মারা যান বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।
ইসরাইলি গণমাধ্যম আরও বলছে, গাজা গণহত্যার শুরুর পর গেলো ৯ মাসের মধ্যে গতকালই হিজবুল্লাহ সবচেয়ে বড় ধরনের রকেট অভিযান চালিয়েছে। এতে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রকেট বন্যায় ইসরাইলের কমপক্ষে তিনটি স্থানে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছে।
রকেট হামলার পর গ্যালিলি ও গোলান মালভূমির কমপক্ষে দশটি স্থানে ছড়িয়ে পরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করে যাচ্ছেন ইসরাইলের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইরাক, ইরান, লেবানন, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।