আবারও ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়লেন ভারতের লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের তেজস্বী সদস্য মহুয়া মৈত্র। ১৮তম লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তার দল বিজেপি’কে এক হাত নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন মহুয়া। সেই আলোচনা মিলিয়ে যেতে না যেতেই বিপাকে তৃণমূল সংসদ মহুয়া মৈত্র। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দিল্লির পুলিশ। খবর এনডিটিভি।
ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মার বিরুদ্ধে এক মন্তব্যের জেরে মহুয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক মন্তব্যের জেরেই মামলা। সেই মন্তব্যেই রেখা শর্মাকে উদ্দেশ্য করে মহুয়া লিখেছিলেন, তিনি তার বসের পাজামা ধরতে ব্যস্ত। তার এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে একজন নারীর মর্যাদাহানি করেছেন সংসদ সদস্য।
এই ঘটনায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লি পুলিশেও অভিযোগ জানায় জাতীয় মহিলা কমিশন। কৃষ্ণনগরের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিন দিনের মধ্যে কমিশনকে রিপোর্ট দেওয়ার কথাও বলা হয়। রেখা শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ন্যায় সংহিতার সেকশন ৭৯ অনুযায়ী এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ।
ভারতের নতুন ফৌজদারি দণ্ডবিধি ন্যায় সংহিতা চালু হওয়ায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এই আইনের কোপে পড়লেন তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। এই সেকশন অনুযায়ী, নারীর মর্যাদাহানি করে এমন ধরনের শব্দ, ইঙ্গিত বা কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং কড়া শাস্তি দেয়া হবে অভিযুক্তকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, শপথ গ্রহণের এক মাস পার হতে না হতেই, নতুন বিপাকে পড়লেন ভারতের এই নারী রাজনীতিবিদ।
আর এই ঘটনার শুরু, সম্প্রতি হাথরসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা। এই ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র দেখা যায়, এক ব্যক্তি রেখা শর্মার পেছনে ছাতা ধরে হাঁটছেন। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে ওঠেন নেটিজেনরা। সেখানেই মন্তব্য করে ফেঁসে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র।
তবে মহুয়া শুধু মন্তব্য করেই থেমে থাকেননি। জাতীয় মহিলা কমিশন ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গলা চড়িয়ে আরেকটি মন্তব্যে বলেন, দিল্লি পুলিশ আসুন অবিলম্বে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। যদি, তিন দিনের মধ্যে আমাকে গ্রেপ্তার করতে চান, তাহলে নদিয়ায় আসুন। এখন আমি নদিয়াতেই রয়েছি। একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি লেখেন, আমি আমার নিজের ছাতা নিজে ধরতে পারি।
‘পাজামা’ মন্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হবার পর তবে মহুয়া মৈত্র সেটি মুছে দেন। তবে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক অপারেশনস ইউনিট মামলার প্রয়োজনে এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেই মন্তব্যের বিস্তারিত তথ্য নেয়ার কথা জানিয়েছে। মামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মহুয়ার দল তৃণমূলের জেষ্ঠ নেতারা। তাদের দাবি, ভোটের আগ থেকেই মহুয়ার পেছনে লেগেছে বিজেপি।
উল্লেখ, গত ডিসেম্বরে ‘ক্যাশ ফর কোয়েরি’ এর অভিযোগ মহুয়া মৈত্রের সংসদ পদ বাতিল করে দিয়েছিলো লোকসভার এথিক্স কমিটি। তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে তিনি আবারও কৃষ্ণনগর থেকে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন। টানা দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হয়ে লোকসভার প্রথম অধিবেশনেই ঝড় তোলেন মহুয়া। তার বক্তব্য শুরু হকেই অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।