যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল ট্রাম্পের কাছে নাস্তানাবুদ হবার পর চাপে রয়েছেন মার্কিন ইতিহাসের প্রবীণতম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে যেতে তাঁন নিজ দল ডেমোক্রাটিক দল থেকেই আওয়াজ ওঠেছে।
তবে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই থেকে বাইডেনের সরে যাওয়া উচিৎ কি না, তা নিয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রবীণ সদস্য ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেছেন, এটি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
এনবিসি টেলিভিশনে বুধবার প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে ন্যান্সি পেলোসি বলেন, নির্বাচন থেকে বাইডেনকে সরে যাওয়া নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে নারাজ। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাইডেনকে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনকে মোকাবেলা করতে হবে। এরপর বাইডেন নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করতে পারেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে বাইডেনের আচরণ, তাঁর ভাষণ ডেমোক্র্যাটদের মুখ পুড়িয়েছে। এমনকি, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তা নিয়ে হাসাহাসি চলছে। ভেসে আসছে বিদ্রুপ। বিতর্কে অসংলগ্নতা দেখা গিয়েছে বাইডেনের মধ্যে। বার বার তিনি কথার খেই হারিয়ে ফেলেছেন। কথা জড়িয়ে গেছে তাঁর।
যা নিয়ে ট্রাম্পও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। এর পরেই ওয়াশিংটন থেকে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসে বাইডেনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে। সেই সঙ্গে লড়াই থেকে সরে যেতে নিজ দলের ভেতর থেকেই আওয়াজ তুলেছে বেশ কয়েকজন নেতা। তবে বাইডেন বলেই যাচ্ছেন, তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগের মধ্যে ন্যান্সি পেলোসির টিভি সাক্ষাৎকার ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠাকে প্রশমিত করতে পারেনি। পেলোসি বলেন, আমরা সবাই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করছি। কারণ হাতে খুব বেশি সময় নেই। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাইডেনকে।
তিনি আরও বলেন, বাইডেন জনপ্রিয় একজন মানুষ। তাকে সবাই সম্মান করে। সবাই চায় তিনি যেন নির্বাচন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। ভোটের জন্য আর বেশি দিন বাকি নেই। তবে সবার আগে বাইডেনকে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া ন্যাটোর বার্ষিক সম্মেলনের ঝক্কি সামাল দিতে হবে, এটি ভীষণ গুরুত্বপুর্ণ।
উল্লেখ্য, গেলো এপ্রিলে ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের কাছে লেখা চিঠিতে সই করে আলোচনায় এসেছিলেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ও ডেমোক্র্যাট দলের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ন্যান্সি পেলোসি।
এর কয়েক দিন পর, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির পথে বাধা উল্লেখ করে, ইসরাইলের স্বার্থেই শিগগিরই পদত্যাগ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইল যা করছে, এর চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছুই হতে পারে না।