এফ-১৬ ধ্বংস করলেই মিলবে মোটা অংকের অর্থ!

রাশিয়ার যে সেনা সর্বপ্রথম মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পারবে তাকে বিশাল অংকের অর্থ পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে রুশ কোম্পানি ফোরেস। বেসরকারি কোম্পানিটি বলেছে, প্রথম যে সেনা এফ-১৬ ভূপাতিত করতে পারবে তাকে ১৫ মিলিয়ন রাশিয়ান রুবল বা এক লাখ ৭০ হাজার ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। 

বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে হিন্দুস্থান টাইমস ও পার্সটুডে জানিয়েছে, এর আগেও এই তেল কোম্পানিটি পশ্চিমা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করার জন্য রুশ সেনাদেরকে বিভিন্ন সময় পুরস্কার দিয়েছে। 

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ড ইউক্রেনকে অন্তত ৬০টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছে। এরইমধ্যে ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডস থেকে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের স্থানান্তর শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি গ্রীষ্মেই ইউক্রেনের আকাশে উড়বে এফ-১৬। 

ফোরেসের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়া পোটানিন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার জন্য বিশেষ পুরস্কার দেয়া হবে। 

মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। 

এর আগে ফোরেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে দেয়া বক্তৃতায় একই ধরনের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চেয়ে আসছে ইউক্রেন। এই ফাইটার দেয়ার আগেই অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে ইউক্রেনীয় পাইলটদের। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিভিন্ন ঘাঁটিতে চলছে প্রশিক্ষণ।  

তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন শুরু থেকেই এ বিষয়ে ন্যাটোকে পরিষ্কার বার্ত দিয়ে আসছেন। 

চলতি বছরে পুতিন এক বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে এফ-১৬ ফাইটার জেট সরবরাহ করলেও এই বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। তবে এই ফাইটার জেটগুলো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং মস্কোকে তার সামরিক পরিকল্পনায় এটি বিবেচনায় রাখতে হবে।

পোল্যান্ড, বাল্টিক রাজ্য বা চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ন্যাটোর কোনো দেশ রাশিয়া আক্রমণ করবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়ে পুতিন সতর্ক করে বলেন, তবে পশ্চিমারা ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য যোদ্ধা সরবরাহ করলে সে বিমান অবশ্যই গুলি করে ধ্বংস করবে রুশ বাহিনী। এটা নাৎসি ইউক্রেন ও ন্যাটো হালকাভাবে নিলে ভুল করবে। 

পুতিনের এমন হুঁশিয়ারির পর শুরুতে ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহ স্থগিত করেছিলো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। পরে অবশ্য সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ন্যাটো।