থাইল্যান্ডে এমপক্স শনাক্ত, নতুন ধরন নিয়ে শঙ্কা

থাইল্যান্ডে এমপক্স বা মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ভাইরাসটির নতুন ও আরও বিপজ্জনক ধরন শনাক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বুধবার থাই রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (ডিডিসি) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্যাংকক পোস্ট। 

ডিডিসি মহাপরিচালক থংচাই কিরাতিহাত্তায়াকর্ন বলেন, আক্রান্ত রোগী একজন ৬৬ বছর বয়সী ইউরোপীয় নাগরিক। তিনি ১৪ আগস্ট আফ্রিকা থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আসেন। 

আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকা থেকে ওই ব্যক্তির সাথে উড়োজাহাজে আসা আরও ৪৩ যাত্রীকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে। তবে তাদের এখনও কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়নি। 

প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে এমপক্সের ক্লেড-২ ধরন শনাক্ত হয়নি।

ডিডিসি মহাপরিচালক থংচাই কিরাতিহাত্তায়াকর্ন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখন জেনেটিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। ওই ব্যক্তির দেহে অতি সংক্রমক এমপক্সের ক্লেড-১ ধরন শনাক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। 

ডিডিসি মহাপরিচালক বলেন, আমরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি, তার শরীরে এমপক্সের যে ধরনটি, তা অবশ্যই “ক্লেড-২” নয়। সুতরাং, এটি এখনও শতভাগ নিশ্চিত নয় যে, এটি ক্লেড-১ কেস। কর্মকর্তারা শুক্রবার এটি নিশ্চিত করতে পারবেন। 

এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচও'র ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স ক্লুজ বলেন, এমপক্স বা মাঙ্কিপক্সের নতুন বা পুরোনো ভ্যারিয়েন্ট যাই হোক না কেন, এটি নতুন কোভিড নয়। কর্তৃপক্ষ জানে কীভাবে এ ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রাথমিক অবস্থায় আফ্রিকার কিছু দেশে এমপক্স বা মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও বিশ্বব্যাপী তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে ইউরোপ ও এশিয়ায় শনাক্ত হয়েছে অতি সংক্রামক এ রোগ। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার এমপক্সকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এরইমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, পাকিস্তানসহ আফ্রিকার দেশগুলো এ ভাইরাস মোকাবেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। 

১৯৭০ সালে আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোতে মানবদেহে প্রথম এমপক্সের সংক্রমণ হয়েছিল। পরে সেটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।