মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী, বড় হামলার আশঙ্কায় ইসরাইল

ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে দখলদার ইসরাইলকে রক্ষা করতে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক শক্তি চালিত গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন ও স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে দেশটির আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং যুদ্ধজাহাজের একটি বহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর সিবিএস নিউজের।  

সেন্টকম বলছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে এফ-৩৫ এবং এফ/এ- এইটটিন যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া, এই স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটের বড় বহর। 

রণতরীটি এরইমধ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এতো কিছুর পরেও ইরানের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ইসরাইলিদের মনে আগেই ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।  

গেলো সপ্তাহে মার্কিন সেনা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছিলো, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন পারমাণবিক শক্তি চালিত ইউএসএস জর্জিয়া গাইডেড মিসাইল সাবমেরিনকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্টাইক গ্রুপকেও মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেন।  

এছাড়া, বর্তমানে ওমান উপসাগরে মার্কিন রণতরী ইউএসএস রুজভেল্ট ও তার সাথে সহযোগী বহু সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে ৩১ জুলাই ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

তেহরানে যে ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেই ভবনে হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ইসমাইল হানিয়া ও তার একজন দেহরক্ষী নিহত হন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নবম প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তেহরানে অবস্থান করছিলেন হানিয়া।   

হানিয়া হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত খবর প্রকাশ্যে আসেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ মদদে এবং ওয়াশিংটনে জো বাইডেন প্রশাসনের সবুজ সংকেতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সূত্রগুলো।

হামাস প্রধানের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, হানিয়াকে হত্যার অপরাধে দখলদার ইসরাইলকে কঠিন জবাব দেয়া হবে। হামাস প্রধানের রক্তের বদলা নেয়া আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলে আসছে যে, তারা গাজায় যুদ্ধবিরতি চায় এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর অনুরোধও জানিয়েছে।  

তবে কোনোকিছুকে তোয়াক্কা না করে হানিয়া হত্যার ঘটনায় ইরানের রাজধানী তেহরানের জামকারান মসজিদে ‘ইয়ালাসারাত আল-হুসেইন’ বা আল-হোসেইনের আঘাত লেখা লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে এই লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড, গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী, এমনকি ইরাকের সন্ত্রাস প্রতিরোধ আন্দোলন আইআরআই এ হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলে হামলার হুমকি দিয়েছে। এরইমধ্যে ইসরাইলে বেশ কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে সংগঠনগুলো।