ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর পোলতাভায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের এই হামলাটিকে যুদ্ধের সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণগুলোর একটি বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। খবর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম বিবিসির।
কিয়েভ কর্মকর্তারা বলছেন, আড়াই বছরের যুদ্ধে এটি ছিলো অন্যতম মারাত্মক রুশ হামলা। কিয়েভ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত তিন লাখ জনসংখ্যার নগরী পোলতাভায় আজ সকালে এ হামলা হয়।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, রুশ বাহিনী দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এ হামলা চালায়। এর ফলে সামরিক যোগাযোগ ইনস্টিটিউটের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একইসঙ্গে পোলতাভা শহরের শিক্ষা কেন্দ্র ও নিকটবর্তী হাসপাতালে এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে বলেন, তিনি সার্বিক ঘটনা ও পরিস্থিতির পূর্ণ ও দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে তিনি আরও বলেন, এই হামলার জন্য রাশিয়াকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি ইউক্রেনকে রক্ষা করতে পশ্চিমাদের আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে।
এদিকে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পোলতাভার সামরিক ইনস্টিটিউটে হামলায় বেশ কয়েকজন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
তবে নিহতদের মধ্যে কতোজন সামরিক এবং কতোজন বেসামরিক, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি কিয়েভ।
সেনা বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা সাহসী ইউক্রেনীয়, আমাদের ভাই ও বোন, সেনাদের হারিয়েছি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলার তথ্য ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের মধ্যে সময়ের ব্যবধান এতই কম ছিলো যে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
একাধিক রুশ সূত্র হামলার তথ্য নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো বিবৃতি দেয়নি মস্কো।