ইসরাইলি বিমান হামলায় বৈরুতে ব্যাপক বিস্ফোরণ

লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে দখলদার ইসরাইল। শুক্রবার সকালে নতুন করে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় বৈরুত বিমানবন্দরের ঠিক বাইরে ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার পেছনে ইসরাইলের লক্ষ্য কী ছিলো সেটি এখনও স্পষ্ট না। তবে রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকাকে লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের স্থল ও বিমান হামলায় আরও ৩৭ জন নিহত এবং ১৫১ জন আহত হয়েছেন।

লেবানিজ সেনাবাহিনী বলেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২০টি শহর ও গ্রাম খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। ওই অঞ্চলে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দখলদার বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় দুই লেবানিজ সেনা নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে জানিয়েছে যে তাদের সেনারা সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হত্যা করেছে।  

এদিক হিজবুল্লাহ বলছে, তারা সীমান্তের দুইদিক থেকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।  

এর আগে বৃহস্পতিবার দখলদার ইসরাইলের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এবার দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হিজবুল্লাহ। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন দখলদার সেনা হতাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানালেও ইসরাইলি গণমাধ্যম এখনও তা স্বীকার করেনি।  

গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।

চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে গেলো বছর ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এর জেরেই লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে।