কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কে মাধ্যমে মেশিন লার্নিংকে সক্রিয় করার তোলার গবেষণায় মৌলিক আবিষ্কার এবং উদ্ভাবনের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৪ সালের নোবেল পুরস্কার জিতেছেন উত্তর আমেরিকার দুই গবেষক জন হপফিল্ড এবং জিওফ্রে হিন্টনকে।
মঙ্গলবার, সু্ইডেনের অসলোতে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
পদার্থবিজ্ঞানে এবার নোবেল পুরস্কার জেতা জন জে. হপফিল্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ও জেফরি ই. হিন্টন কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটির গবেষক। দু’জনই কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক উদ্ভাবন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে গবেষণা করে আসছেন। তারই স্বীকৃতি পেলেন এই দুই গবেষক।
পদার্থবিদ্যার নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান এলেন মুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের দারুণ অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে। আমরা ছবি এবং বক্তৃতা চিনতে পারি এবং সেগুলোকে স্মৃতি এবং অতীত অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত করতে পারি। একত্রে সংযুক্ত কোটি কোটি নিউরন আমাদের জ্ঞানী করে। কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কগুলো আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনের এই নেটওয়ার্ক দ্বারা অনুপ্রাণিত।
তিনি আরও বলেন, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের জন্য এ বছরের বিজয়ী জন হপফিল্ড ও জিওফ্রে হিন্টন পরিসংখ্যানগত পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাগুলো ব্যবহার করে কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কগুলো ডিজাইন করেছেন; যা সহযোগী স্মৃতি হিসাবে কাজ করে এবং বড় ডেটা সেটগুলো খুঁজে পায়।
এলেন মুন আরও বলেন, হপফিল্ড একটি কাঠামো নির্মাণ করেছেন, যেটি তথ্য মজুত ও পুনর্নির্মাণ করতে পারে। অন্যদিকে হিন্টন এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা ডেটাতে স্বতন্ত্রভাবে প্রোপার্টি আবিষ্কার করতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত বৃহদাকার স্নায়বিক নেটওয়ার্কের জন্য এই উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ।
পদার্থবিদ্যায় নোবেলজয়ী এই দুই বিজ্ঞানী পাবেন একটি মেডেল, একটি সনদপত্র এবং মোট ১১ মিলিয়ন বা এক কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। এর বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় হবে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দুই নোবেলজয়ীর মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগ হয়ে যাবে।
জন হপফিল্ড ও জিওফ্রে হিন্টন দু’জনেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন। এই দুই বিজ্ঞানীর গবেষণা মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। যন্ত্রকে শেখানোর উপায় ও পথ দেখাচ্ছে তাদের গবেষণা।
গত বছর পদার্থবিদ্যায় যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান আমেরিকার পিয়ের অগস্টিনি, হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক ক্রাউৎজ এবং ফ্রান্সের অ্যানে এলহুইলার। পদার্থবিদ্যায় ২০২৩ সালের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীরই গবেষণার বিষয় ছিল অভিন্ন- ইলেকট্রন গতিবিদ্যা।
রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স, প্রতি বছর পদার্থবিজ্ঞানের মাধ্যমে মানবতার স্বার্থে অসামান্য অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার-এ ভূষিত করে থাকে। ১৯০১ সালে আলফ্রেড নোবেল কর্তৃক চালু করা পাঁচটি শাখায় নোবেল পুরস্কারের মধ্যে এটি অন্যতম। ১৯০১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১১৭ বার পদার্থে নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ২২৪ জন পদার্থবিদ এই পুরস্কার পেয়েছেন। এরমধ্যে জন বার্ডিন একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দুইবার এই পুরস্কার জিতেছেন।