মার্কিন রাজনীতিতে কমলা হ্যারিসের উত্থান যেভাবে

কমলা দেবী হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। একই সাথে তিনি প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান এবং প্রথম এশিয়ান আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট। আর এই ক্যাটাগরিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। আর জিতে গেলে একই ক্যাটাগরিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্টও হবেন তিনি। 

কমলার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়। তাঁর মা শ্যামলা গোপালন ছিলেন ক্যানসার গবেষক। ২০০৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। কমলার বাবা ডোনাল্ড হ্যারিসের জন্ম জ্যামাইকায়। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। খুব কম বয়সেই কমলার মা–বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিলো।

হ্যারিস বরাবরই নিজের কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি নিজেকে ‘আমেরিকান’ বলে সব সময় বর্ণনা করেন। ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টকে কমলা বলেন, আমি যা আমি তাই। আমি এর সঙ্গেই ভালো মানায়। আপনাকে এটা খুঁজে দেখতে হলেও আমি এতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি।

ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত কমলা হ্যারিস হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৩ সালে হ্যারিস প্রথমবার নির্বাচনে জেতেন এবং সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচিত হন। তিনি ২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন।

কমলা ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও অ্যাটর্নি জেনারেল থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমালোচক ছিলেন কমলা।

দুই বছরের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করার সময় হ্যারিস ডেমোক্রেটিক পার্টির উঠতি তারকা হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাইক পেন্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রথমে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, পরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হেস্টিংস কলেজ অব দ্য ল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় আলমেদা কাউন্টি অ্যাটর্নি অফিসে। পরে তিনি সান ফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে এবং পরে সান ফ্রান্সিসকোর সিটি অ্যাটর্নি অফিসে নিয়োগ পান। 

২০০৩ সালে তিনি সান ফ্রান্সিসকোর জেলা অ্যাটর্নি নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। কমলা হ্যারিস ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। 

তিনি ২০১৬ সালের সিনেট নির্বাচনে লরেটা সানচেজকে পরাজিত করে দ্বিতীয় আফ্রিকান আমেরিকান মহিলা এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কাজ করেন। সিনেটর হিসেবে, তিনি স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, গাঁজার ফেডারেল ডি-শিডিউলিং, অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্বের উপায়, ড্রিম অ্যাক্ট, অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্স সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন। 

কমলা হ্যারিস ২০২০ সালে ডেমোক্রেটিক রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রথম দিকেই নির্বাচনের দৌড় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। বাইডেন তাকে ২০২০ সালের আগস্টে তার রানিং মেট হিসাবে নির্বাচিত করেন। তিনি ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কর্মজীবনে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কমলা হ্যারিস। ২০০৫ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ২০ জন নারীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে নিউজউইক। একই বছর তাকে থারগুড মার্শাল অ্যাওয়ার্ড দেয় ন্যাশনাল ব্ল্যাক প্রসিকিউটরস অ্যাসোসিয়েশন। 

এছাড়াও ২০১৩, ২০ ও ২১ সালে তিনি টাইম হানড্রেডে অন্তর্ভূক্ত হন। এর মধ্যে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে যৌথভাবে টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন কমলা হ্যারিস।