যুক্তরাষ্ট্রে নারী ভোটারদের মধ্যে কমলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গর্ভপাত নিষিদ্ধের মনোভাবে তার প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নারীদের মাঝে। দেশটিতে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি, তেমনই ভোট দিতে যাওয়ার হারও বেশি। ফলে নারীদের ভোটেই ইতিহাসের প্রথম নারী ও দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয় পেতে পারেন কমলা হ্যারিস।
উইসকনসিনে এক সভায় রিপাললিকান প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নারীরা পছন্দ করুক বা না-করুক, তিনি নারীদের রক্ষা করবেন। নারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প মেয়েদের রক্ষা করবেন কী, তার হাত থেকে মেয়েদের রক্ষা পাওয়াটাই অধিক জরুরি।

এক বিবৃতিতে কমলা বলেছেন, ট্রাম্পের কথা থেকেই স্পষ্ট, নিজের শরীরের ওপর নারীর অধিকারের ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতায় তিনি বিশ্বাস করেন না।
এবারের নির্বাচনে একটা প্রধান বিষয় গর্ভপাত প্রশ্নে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা। গর্ভপাত প্রশ্নে যে আইনি নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা অর্ধশতক ধরে ভোগ করেছেন, ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক সিদ্ধান্তে তা বাতিল করেন। ট্রাম্প গর্ব করে বলেছিলেন, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুধু তাঁর জন্যই সম্ভব হয়েছে, কারণ তিনি সুপ্রিম কোর্টে এমন তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন, যাঁরা গর্ভপাতবিরোধী।

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার ৫০.৫ শতাংশ নারী। মোট ভোটারের হিসাবেও তাঁরা পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে, ৫৩ শতাংশ। তার চেয়ে বড় কথা, পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি হারে ভোট দিয়ে থাকেন। পুরুষদের ভোট দেয়ার গড় হার যেখানে ৬৫ শতাংশ, সেখানে নারীদের ভোট প্রদানের হার প্রায় ৭০ শতাংশ।
গর্ভপাত চলতি নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই নারী ভোটাররা, বিশেষত শিক্ষিত, শহুরে ও শহরতলির নারীরা কমলার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
এ কথা ঠিক, পুরুষ ভোটার, বিশেষত শ্বেতাঙ্গ ও কম শিক্ষিত পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন বেশি। এই গ্রুপের ভোটারদের মধ্যে কমলার তুলনায় ট্রাম্প ৯-১০ শতাংশ হারে এগিয়ে। অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করেন, চলতি জরিপ যদি ঠিক হয়, তাহলে শুধু নারী ভোটের সাহায্যেই কমলার পক্ষে পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে তাঁর এই ফারাক কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক নির্বাচনী বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২০ সালে যারা ভোটে অংশগ্রহণ করেন, তার ৫৩ শতাংশ নারী এবং ৪৭ শতাংশ পুরুষ। ব্রুকিংস জানাচ্ছে, এ বছরের নির্বাচনেও যদি নারী ও পুরুষ গতবারের হারে ভোট দেন, তাহলে ট্রাম্পের তুলনায় কমলা ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৪ অধিক ভোট পাবেন।
নিশ্চয় জানেন দেশটিতে আগাম ভোট চলছে। এরিমধ্যে ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ আগাম ও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। এনবিসির হিসাব অনুসারে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ভোট পড়েছে ১০ শতাংশ বেশি। এ অবস্থায় আগাম ভোটেও নারী ভোটারদের উপস্থিতি কমলার এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সবমিলিয়ে বলা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের ভোটেই বিজয় আসতে পারে কমলার।
