তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত আমেরিকা ও ব্রিটেনের জনজীবন

ভয়াবহ তুষারঝড়ে নাকাল ইউরোপ-আমেরিকা। দেশে দেশে অস্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারপাত ও ঝড় মোকাবেলা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মানুষরা। সে সঙ্গে স্মরণকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাক্ষী হতে হচ্ছে দেশ দুটোর বেশিরভাগ বাসিন্দাদের। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্লেইনস থেকে ইস্ট কোস্ট অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ তুষারঝড়, বৃষ্টি ও ভারী তুষারপাতের ঝুঁকিতে আছে। সোমবার এসব অঞ্চলে শীতকালীন ঝড় আঘাত হানতে পারে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ এ পূর্বাভাস দিয়েছে। সবশেষ খবর পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে তুষারঝড় চলছে। 

শীতকালীন ঝড়কে সামনে রেখে কেন্টাকি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নররা অঙ্গরাজ্য দুটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভারী তুষারপাত থেকে শুরু করে আরও দক্ষিণের অঞ্চলের সড়কগুলো বরফে ঢেকে যাওয়ার মতো বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। 

যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কোটির বেশি মানুষকে তুষারঝড়ে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। নেব্রাস্কা ও কানসাস থেকে ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, পেনসিলভানিয়া ও উত্তর-পশ্চিম ভার্জিনিয়া হয়ে পূর্ব দিকে বিশাল এলাকাজুড়ে ১ ইঞ্চি থেকে ১ ফুট পর্যন্ত তুষার জমতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সোমবার রাত নাগাদ ঝড়টি ইস্ট কোস্ট অতিক্রম করে আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে যেতে পারে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে হিম বাতাস বয়ে যেতে পারে। সোমবার রাতে ঝড়টি আটলান্টিকের দিকে যেতে পারে।

এদিকে, লন্ডনে শনিবার সন্ধ্যা থেকে তুষারপাত ও তুষারসহ বৃষ্টি হয়। কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। একের পর এক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। তুষারঝড়ের কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাসে বলছে, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের মধ্য, দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে আরও জোরালো তুষারপাত ও তুষারসহ বৃষ্টি হতে পারে। স্কটল্যান্ডের বড় অংশ, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে তুষারপাতের কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

রাতভর ভারী তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিমানবন্দরের মধ্যে রয়েছে লিভারপুলের জন লেনন বিমানবন্দর, ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর, বার্মিংহাম বিমানবন্দর, লিডস ব্রাডফোর্ড বিমানবন্দর।

ভারী তুষারঝড়ের কারণে এরই মধ্যে স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল ও ট্রান্সপেনিনি এক্সপ্রেস রুটে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রা শুরুর আগে আবহাওয়া ও ট্রেন চলাচলের হালনাগাদ তথ্য জেনে নিতে অনুরোধ করেছে।

উত্তর ইংল্যান্ডের মহাসড়কগুলো ভারি তুষারে ঢেকে যাবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারী তুষারপাতের কারণে যুক্তরাজ্যের মধ্যাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং ওয়েলসের অনেক জায়গা রোববার সকালে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিকেল নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ আবার চালু করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।