যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে দেশটির ৩০টিরও বেশি রাজ্যের অন্তত ৬ কোটি মানুষ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। তাছাড়া দেশটিতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার সবচেয়ে ভারী তুষারপাত ও শীত পড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডেও তীব্র তুষারপাত শুরু হয়েছে। এদিকে, চীন ও ভারতের বিভিন্ন এলাকা ছেয়ে গেছে তুষারের ভারি আস্তরে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত বিপর্যয়কর শীতকালীন তুষারঝড়, ভারী তুষারপাত ও জমে থাকা বরফের কারণে কেন্দ্রীয় সমভূমি অঞ্চল থেকে মধ্য আটলান্টিক অঞ্চল পর্যন্ত বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। জনজীবনে নেমে আসবে অকল্পনীয় স্থবিরতা।
এরই মধ্যে আবহাওয়া অফিস ৭টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে, যার মধ্যে কানসাস ও মিসৌরি অবস্থা বেশি খারাপ। জরুরি অবস্থার আওতায় পড়া অন্যান্য রাজ্য হচ্ছে কেনটাকি, ভার্জিনিয়া, পশ্চিম ভার্জিনিয়া, আরকানসাস ও নিউ জার্সির কিছু অংশ। এসব রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষ তুষারঝড়ের কবলে পড়ছেন।
ঝড়টি সোমবার পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এ ঝড় ধীরে ধীরে পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। তীব্র শীতের তাপমাত্রা দেশের উত্তর অংশে প্রভাব বিস্তার করছে। মধ্যপশ্চিমে তুষারঝড়ের প্রভাবের ফলে কোটি মানুষকে সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে।
ঝড়ের কারণে এরই মধ্যে কয়েক হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল হয়েছে। কুয়াশা ও ভারী তুষারপাতের কারণে অনেক রাস্তাঘাট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বহু স্কুল। তুষারঝড়ের কারণে কানসাস ও মিসৌরিতে লোডশেডিং হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কানসাস সিটি (কানসাস), ভার্জিনিয়া ও মিসৌরিতে তুষারপাত ও বরফের কারণে রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মিড-অ্যাটলান্টিকের বাল্টিমোর, ওয়াশিংটন ডি.সি ও ভার্জিনিয়ার রিমাণ্ডে আজ সোমবার সকালে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের উপকূলীয় অঞ্চলে তিন ফুট বা তার বেশি তুষারপাত হয়েছে। সেন্ট লুইসে ভারী তুষারপাত এবং বরফের কারণে রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বরফ জমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
ভার্জিনিয়া এবং কেন্টাকি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বরফ ও তুষারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্টাকির গভর্নর শীতের জন্য উষ্ণকেন্দ্র খুলেছেন কর্তৃপক্ষ। অনিবার্য না হলে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঝড় শেষে তীব্র ঠান্ডা বাতাস এবং তাপমাত্রার পতন হবে।
পূর্বাভাস অনুসারে, মধ্য-পশ্চিম থেকে উত্তরপূর্ব পর্যন্ত বাতাসের শীতলতা শূন্য ডিগ্রির নিচে নেমে আসবে এবং ফ্লোরিডা পর্যন্ত হিমশীতল তাপমাত্রা দেখা যাবে। ঝড়ের ফলে শীতকালীন চরম আবহাওয়া জনজীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। সতর্কতা অনুসরণ এবং জরুরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে তুষারঝড়ে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। একের পর এক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সার্ভিস জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে কেন্টাকি এবং ভার্জিনিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
তুষারঝড়ের কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের মধ্য, দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে আরও জোরালো তুষারপাত ও তুষারসহ বৃষ্টি হতে পারে। স্কটল্যান্ডের বড় অংশ, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে তুষারপাতের কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
শুধু ব্রিটেন আর আমেরিকাই নয় ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি ও উত্তর প্রদেশের জনজীবন। কুয়াশার কারণে সামান্য দূরের কিছুও দেখা না যাওয়ায় রাস্তাঘাটে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির কাশ্মীর, শিমলাসহ বিভিন্ন জায়গায় তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ চীনে মঙ্গোলিয়া প্রদেশের হুলুন বুইর সিটিতে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তুষারের ভারি আস্তরে বন্ধ হয়ে গেছে পথঘাট। এতে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।