যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউয়ের প্রথমদিনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা না ঘটলেও অব্যাহত রয়েছে গণগ্রেপ্তার। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩০ জনই অবৈধ অভিবাসী। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। এরমধ্যেই আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিং’ নামে বড় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।
দাউ দাউ করে জ্বলছে লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। টানা ছয়দিন ধরে চলা বিক্ষোভে উত্তাল শহরটিতে কারফিউ জারি করা হলেও থেমে নেই বিক্ষোভকারীরা। বুধবার কারফিউয়ের প্রথমদিনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা না ঘটলেও অব্যাহত রয়েছে গণগ্রেপ্তার। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে চলমান কারফিউর সময়সীমা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস । তিনি বলেন, কারফিউ জারির যে জরুরি ঘোষণাপত্রে সই করা হয়েছে তাতে কোনও সময়সীমা নেই। যতক্ষণ প্রয়োজন হবে ততক্ষণ কারফিউ জারি থাকবে। অভিযান অব্যাহত থাকলে কারফিউ অব্যাহত থাকবে। বুধবার রাতে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তবে আমি আশা করছি এরপর আর গ্রেপ্তার করা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভের জেরে শহরটিতে এখন ইরাক ও সিরিয়ার চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বর্তমানে ৪ হাজার ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সদস্য মোতায়েন আছেন। অন্যদিকে ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন রয়েছেন যথাক্রমে আড়াই ও দেড় হাজার মার্কিন সেনা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন আর লস অ্যাঞ্জেলেসে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে।
বুধবারও লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও শিকাগোসহ বহু শহরে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কিছু এলাকায়ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যেই আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিং’ নামে বড় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় গণজমায়েত হতে পারে এদিন।