ট্রাম্প যেই আইনের ভিত্তিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছেন, তা শুধু বাইরের ‘আক্রমণ’ ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়। দেশীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সামরিক বাহিনী ব্যবহারের ঘটনা বিরল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বদলে ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য বেপরোয়া শক্তি প্রদর্শন করা।
ঘটনা শুরু হয় বৈধ কাগজপত্রবিহীন বহিরাগত ব্যক্তিদের ধরপাকড় থেকে। গেল সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের যে দুটি এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। যার প্রায় ৬০ শতাংশ বহিরাগত-অধ্যুষিত। এদের মধ্যে বৈধ নাগরিক নন, এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ‘আইস’ সেখানে বহিরাগত ব্যক্তিদের কর্মস্থলে অভিযান চালায়। আর তাতেই শুরু হয় বিপত্তি।

পরপর তিন দিনের বিক্ষোভ ও দাঙ্গার পর অবস্থা সামাল দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই হাজার ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর নির্দেশ দেন। কয়েক দিন আগে গার্ডদের প্রথম দলটি আইস বা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিরোধী দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছায়। ভারী অস্ত্রসজ্জিত এসব গার্ডের উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে তা আরও উসকে দেয় এবং দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ন্যাশনাল গার্ডদের নিয়োগ নতুন ঘটনা নয়। ৬০ বছরে অবস্থা সামাল দিতে ২৪ বছরেরও বেশি সময় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই হয় স্থানীয় গভর্নরের অনুরোধে, অথবা তা তাদের সমর্থনেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে, এবার কেন তার ব্যতিক্রম হচ্ছে তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে।
কয়েক দিন আগেই ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসাম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ট্রাম্প যেই আইনের ভিত্তিতে ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছেন, তা শুধু বাইরের ‘আক্রমণ’ ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়।
পরিস্থিতি সামাল দেয়ার ক্ষমতা ক্যালিফোর্নিয়ার নিজের রয়েছে। তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে রাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যেই এমন অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের তিনি সেনাধ্যক্ষ, অথচ এ বিষয়ে তার সম্মতি নেয়ার কোনো প্রয়োজন ট্রাম্প দেখেননি।
এছাড়া, ট্রাম্প ও নিউসামের মধ্যে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। তিনি নিউসামের নতুন নাম দিয়েছেন নিউ স্ক্যাম। যার অর্থ ‘আবর্জনা’। এছাড়া, ট্রাম্প অনেক দিন ধরেই বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্রাটদের নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এর আগে তিনি নিউইয়র্ককে বলেছেন ‘নরকের গর্ত’। পাশাপাশি, শিকাগো, বাল্টিমোর বা ফিলাডেলফিয়াসহ যেকোনো ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহর ও রাজ্যকেও তিনি একই ভাবে আক্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বদলে ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য বেপরোয়া শক্তির প্রদর্শন করা।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত শতাধিক, প্রাণহানি ছাড়ালো ৫৫ হাজার
দিল্লিতে রেড এলার্ট জারি