ইসরাইলে নতুন করে মিসাইল হামলা চালালো ইরান

ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার দিবাগত রাতভর ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা পর, ইরান নতুন করে এই হামলা চালালো। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতেও ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালায় ইরান। এসব হামলায় ১০ ইসরাইলি নাগরিক নিহত ও বহু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরাইল ও ইরান গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যা একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে, দুই দেশের তীব্র যুদ্ধ এখন তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো বলছে, শনি থেকে রোববার পর্যন্ত উত্তর ইসরাইলে ইরানি মিসাইল হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে ছোড়া মিসাইল শনাক্ত করার পর দেশটির বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে উঠে। আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশটির বিমান বাহিনী হুমকি দূর করতে যেখানে প্রয়োজন সেখানে বাধা দেয়ার এবং আক্রমণের জন্য কাজ করছে। 

ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সারাদেশের মানুষকে সুরক্ষিত স্থানের কাছাকাছি থাকতে বলেছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ড হল নাগরিক সুরক্ষায় আইডিএফের একটি অংশ।

আইডিএফ আরেক বিবৃতিতে বলেছে, যান চলাচল কমিয়ে আনা ও জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। সতর্কতা সাইরেন বাজার কোন সুরক্ষিত সুরক্ষিত স্থানে ঢুকে পড়তে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে হবে। 

ইসরাইলি চ্যানেল-১৩ জানিয়েছে, হাইফা এবং নিকটবর্তী তামরায় মিসাইল হামলা হয়েছে। হাইফায় হামলাটি ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিলো, কারণ উপকূলীয় শহরটিতে কৌশলগত গ্যাস অবকাঠামো রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি ইরানের বুশেহর এবং আবাদানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলি বোমা হামলার প্রতিশোধে ইরানের প্রতিশ্রুত প্রতিশোধের সূচনা মাত্র।

কিছুক্ষণ আগে পাওয়া এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইলের বাত ইয়াম শহরে নতুন করে একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষিত স্থানের কাছাকাছি থাকা নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখনও বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়নি, তবে কিছু লোক এখনই সরে যেতে বেছে নিচ্ছে। সেখানের রাস্তায় আতঙ্কের অনুভূতি বিরাজ করছে। লোকজনের নিজেদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করছে এবং চিৎকার করছে।

ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত ইসরাইলের বাত ইয়াম শহরের একটি স্থান পরিদর্শন করার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার জন্য ইরানকে খুবই চড়া মূল্য দিতে হবে। আমরা অস্তিত্বের লড়াই চালাচ্ছি। আমি মনে করি এখন প্রতিটি ইসরাইলি নাগরিক তা বুঝতে পারছে।

উল্লেখ্য, গাজায় নৃশংস হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যার জন্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানের হামলায় দেশটির কেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সকল কর্মী এবং তাদের পরিবারকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইসরাইলে অবস্থিত তাদের পরিবারের সদস্যদের এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কিছু কর্মীকে দেশে ফেরত যেতে বলেছে। 

বর্তমানে তেল আবিবের কাছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এর অর্থ হলো, স্থলপথে জর্ডানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাওয়ার একমাত্র উপায়। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলে তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে রাখছে, তেল আবিবে নয়। জেরুজালেমে যে কয়েকটি দেশের দূতাবাস রয়েছে তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে।