যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই মধ্য টেক্সাসের কের কাউন্টিতে। এখনো নিখোঁজ অনেকে। স্যান অ্যান্টনিও শহরে তুমুল বৃষ্টির কারণে গুয়াদালুপ নদীর পানি বেড়ে এ বন্যা হয়।
আবহাওয়াবিদেরা আরও বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হঠাৎ কেন এমন তীব্র বন্যা, কেন এতো প্রাণহানি?
দাবানল নয়, ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা নজিরবিহীন ছাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। ৪ জুলাই ভোরে টেক্সাসের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় প্রচণ্ড শক্তিশালী ঝড়ের কারণে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। এই পরিমাণ বৃষ্টি কের কাউন্টির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
কিন্তু কেন এই আকস্মিক বন্যা? পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এই অঞ্চলের মাটি শুষ্ক ও কঠিন হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে মাটিতে শোষিত না হয়ে দ্রুত গড়িয়ে যায়, যা এলাকাটিকে প্রাকৃতিকভাবেই বন্যাপ্রবণ করে তুলেছে। ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির বিশাল স্রোত গুয়াদালুপে নদীতে প্রবেশ করলে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে নদীর পানি ২৯ ফুট বেড়ে যায়। যা ছাড়িয়ে গেছে ১৯৮৭ সালের বন্যার রেকর্ডকেও।
মারাত্মক এই বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন উঠছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগের সক্ষমতা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, সময়মতো সঠিক পূর্বাভাস না দেয়ার কারণেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে দুর্যোগের পূর্বাভাস সময়মতো এবং সঠিকভাবে দিতে পারেনি আবহাওয়া অফিস।
পাশাপাশি এত বড় বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে, সরকারি ব্যয় কমাতে মার্কিন সরকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের নীতিকেও। এতে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওশেনিক এন্ড অ্যাটমোস্ফেয়ারিক এডমিনিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য আবহাওয়া অফিসগুলো। শঙ্কা এর প্রভাবে সক্ষমতা কমবে। যা আগামী দিনগুলোতে হারিকেন, টর্নেডো, বন্যার মতো দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস দেয়া কঠিন হবে।