যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার এসব কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে এ পদক্ষেপ। পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের শত শত ইউনিট ও ব্যুরোও বিলুপ্ত বা পুনর্গঠিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়ছেন প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
দীর্ঘদিনের কর্মস্থল থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বেরিয়ে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একের পর এক কর্মী। তাদের পাশে দাঁড়াতে মন্ত্রণালয়ের বাইরে জড়ো হয়েছেন কর্মীদের শুভাকাঙ্ক্ষী আর পরিবারের সদস্যরা। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার যাঁতাকলে বেকার হয়ে পড়েছেন এক হাজার ৩শ’র বেশি কর্মী। চাকরি হারানোয় ক্ষুব্ধ অনেকেই।
তারা বলেন, এটা খুবই বিধ্বংসী আর আত্মঘাতী একটি পদক্ষেপ। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সবচেয়ে বেশি দরকার এই দেশের, আর তাদেরকেই বের করে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অস্থির, এছাড়া চীন ও রাশিয়ার দিক থেকে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সময়। কিন্তু যারা এ সমস্যা সমাধানে দক্ষ, তারাই চাকরিচ্যুত হচ্ছে। তারা আরও যোগ করেন, আমাদের তো শুরুতে বিশ্বাসই হয়নি। এখানে যারা কাজ করেছেন তাদের বেশিরভাগই খুবই দক্ষ কূটনীতিক। কেউ কেউ তো পাঁচটিও ভাষা জানেন। তাদেরও চাকরি যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন মন্ত্রণালয়ের সিভিল সার্ভিসের ১ হাজার ১০৭ কর্মকর্তা এবং ফরেন সার্ভিসের ২৪৬ কর্মকর্তা। পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার সদস্যকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করতে হবে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের চাকরিচ্যুত করা কর্মীদের পাশাপাশি যারা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ছেন, তাঁরাও রয়েছেন।
তারা বলেন, যারা এই দেশের জন্য, পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করেছে, তারা চাকরিচ্যুত হচ্ছে। এটি অবৈধ, এর ফল আমাদের পেতে হবে। আমি আমার সাবেক কর্মক্ষেত্রের এই কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। ওদের কষ্ট আমি বুঝতে পারছি কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আমি জীবনের ৩০টি বছর দিয়েছি।
যেসব ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাকে শুক্রবার জনবল হ্রাসের নোটিশ দেওয়া হবে, তাঁদের ১২০ দিনের জন্য প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এরপর তাঁদের চাকরি মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে। আর চাকরিচ্যুত হওয়া অধিকাংশ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাকে প্রথমে ৬০ দিনের ছুটিতে রাখা হবে। এরপর তাঁদের ছাঁটাই কার্যকর হবে।