চূড়ান্ত টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক। দীর্ঘদিন পুতিনের প্রশংসা করলেও ট্রাম্প এখন তাকে দায়ী করছেন ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য। এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দিলেও রবিবার থেকে আবারো সামরিক সহায়তা শুরু করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করবেন। কিন্তু চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি আসিয়ান সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠক করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে। কিন্তু বৈঠকের পর রুবিও জানান, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার আচরণে হতাশ ও বিরক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আর ট্রাম্পের এই মনোভাব পরিবর্তন ইউক্রেনের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু রবিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র আবারো সামরিক সহায়তা শুরু করেছে তাদের। যদিও এই অস্ত্র ন্যাটোর মাধ্যমে ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্পের আচরণ বরাবরই লেনদেনভিত্তিক, তাই প্রশ্ন উঠছে পুতিনের বিরুদ্ধে তার এই অবস্থান কতটা স্থায়ী থাকবে? অতীতে একাধিকবার তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেও পরে সুর নরম করেছেন। কিন্তু এবার পুতিন ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া শান্তিচুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ট্রাম্প দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন পুতিন আসলে শান্তি চান না।
ট্রাম্প ও পুতিনের মাঝে উত্তেজনা বাড়লে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংঘর্ষের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। দু’জনই নিজেদের শক্তি ও মর্যাদা রক্ষার জন্য কঠিন অবস্থান নিতে পারেন।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলাদা আলোচনা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষ মে মাসে ইস্তাম্বুলে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করে ওয়াশিংটন।