হুথি আন্দোলন বা হুসি আন্দোলন, যার আনুষ্ঠানিক নাম আনসারুল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহর সমর্থক। একটি শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন, যা নব্বই দশকে ইয়েমেনে জন্ম নেয়। তবে এই হুথিদের নেপথ্যে কারা, তারা কীভাবে অস্ত্র সহায়তা পায়, কারাই বা সাহায্য করছে হুথিদের?
সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় লোহিত সাগরে ডুবে যায় একটি কার্গো জাহাজ। এই ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে ১০ জন ক্রুকে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। একটি জাহাজ দখলসহ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে চারটি জাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এসব হামলা চালাতে হুথিদের সহায়তা করছে ইরান। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরান হুথিদের কাছে ড্রোন, ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ নানা ধরনের অস্ত্র পাচার করেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। কেবল রাজনৈতিকভাবে হুথিদের সমর্থন করার কথা জানিয়েছে দেশটি।
হুথিদের উপর ইরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও ইরানি অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া হুথিদের এই পর্যায়ের হামলা করার সক্ষমতা নেই বলে জানান মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক আইআইএসএস- এর আর্মড কনফ্লিক্ট বিভাগের সিনিয়র ফেলো ওলফ ক্রিশ্চিয়ান পিজ।
তিনি বলেন, ইরান ইয়েমেনে ড্রোন তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে হুথিদের সহায়তা করে থাকতে পারে। এছাড়া হুথিরা হিজবুল্লাহর কাছ থেকেও সামরিক পরামর্শ ও সহায়তাও পেতে পারে।
চলতি বছর ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় অতর্কিত হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবে ইরান ইসরাইলের ওপর বিমান হামলা চালায়। এর আগে গেলো বছর সেপ্টেম্বর থেকে ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহর উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে।
সব মিলিয়ে ইসরাইল ও মার্কিন হামলায় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। তবে, ইরান এবং হিজবুল্লাহর উপর এসব আক্রমণ তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীদের যে কোনো সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
