অপরাধচক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় চাকরি হারালেন দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশমন্ত্রী

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশমন্ত্রী সেনজো মাচুনুকে তাৎক্ষণিক বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধ চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠার পরপরই রোববার (১৩ জুলাই) দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত নেন।

কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পুলিশ কমিশনার এন’হানহলা মাখোয়ানাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাচুনু। গত সপ্তাহে তার মুখপাত্রের দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তিনি আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার এই কথাতে চিড়া ভেজেনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসার ওপর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার চাপ রয়েছে। কারণ রাজনৈতিক দল এবং নাগরিকরা বলছেন যে অভিযোগগুলো ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অখণ্ডতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিনিয়োগকারীরা বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক অপরাধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন, যা বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুসারে দক্ষিণ আফ্রিকার মোট দেশজ উৎপাদনের আনুমানিক ১০ শতাংশ ক্ষতি করে।

রামাফোসা এক জনসভায় বলেন, এই অভিযোগগুলো জরুরি এবং ব্যাপক তদন্তের দাবি রাখে। তার এই কথা; সরকারের সব সম্প্রচার সংস্থা ও বেসরকারি টিভি স্টেশনগুলোতে প্রচারিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তিনি এই উদ্দেশ্যে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন প্রতিষ্ঠা করবেন।

রামাফোসা জানিয়েছেন, তিনি আইনের অধ্যাপক ফিরোজ কাচালিয়াকে ভারপ্রাপ্ত পুলিশমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

মাচুনুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন রামাফোসা। কারণ দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় বসেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং জনগণের মধ্যে বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

সিরিল রামাফোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হচ্ছেন মাচুনু। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দলের নির্বাচনি সম্মেলনে নেতৃস্থানীয় পদের জন্য তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।