এবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে দেশটিরই দুই মানবাধিকার সংস্থা। ইসরাইলভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় দুটি মানবাধিকার সংস্থা- বতসেলেম ও ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। এতে ফিলিস্তিনের সমাজ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই প্রথমবার ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে গাজার যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করলো। এর আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুললেও, ইসরায়েলি সংস্থার পক্ষ থেকে এতটা স্পষ্ট ভাষায় এমন অভিযোগ এই প্রথম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
সংস্থা দুটি বলেছে, ইসরাইলকে থামানো পশ্চিমা মিত্রদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। সোমবার মানবাধিকার সংস্থা দুটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় বেসামরিক লোকজনের পরিচয় ফিলিস্তিনি হওয়ার কারণেই কেবল প্রায় দুই বছর ধরে তাদের লক্ষ্যবস্তু করছে ইসরাইল।
এর ফলে ফিলিস্তিনি সমাজে মারাত্মক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবেদনে গাজায় ইসরাইলের অপরাধের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার নারী, শিশু ও বৃদ্ধ ফিলিস্তিনিকে হত্যা; গণহারে বাস্তুচ্যুত করা এবং মানুষকে অনাহারে রাখা।
এছাড়া ইসরাইলের হামলায় ঘরবাড়িসহ বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের ফলে ফিলিস্তিনিরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং খাদ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাতিসংঘের হিসাবেই উপত্যকায় অনাহারে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। সেখানের পরিস্থিতিতে ‘নরক’ হিসাবেও উল্লেখ করেছেন বিশ্ব সম্প্রদায়।
‘আমাদের গণহত্যা’ শিরোনামে প্রকাশিত বেতসেলেমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের অভিযানে গাজার সাধারণ মানুষের উপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা সংগঠিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন বহন করে। তারা তুলে ধরেছে- গাজায় দশ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু, শহর ও আবাসিক এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস, দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রীর প্রবেশে বাধা।
বেতসেলেমের নির্বাহী পরিচালক ইউলি নভাক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করছি, তা আমরা কখনোই লিখতে চাইনি। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে যা ঘটছে, তা আর অস্বীকার করা সম্ভব নয়। ৭ অক্টোবর হামাসের ভয়াবহ হামলার গুরুত্ব খাটো করছি না, কিন্তু ইসরাইলের প্রতিক্রিয়ায় যে মাত্রায় গাজার জনগণের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, তা স্পষ্টতই একটি গণহত্যায় পরিণত হয়েছে।
সরকারের কটূক্তি ও ঘৃণাত্মক বক্তব্যও যুক্ত হয়েছে প্রমাণে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি মন্ত্রী ও রাজনীতিকদের একাধিক অমানবিক ও ঘৃণামূলক বক্তব্য এই গণহত্যার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রের ইঙ্গিত দেয়। যেমন, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াওভ গালান্ট গাজার মানুষকে ‘মানব পশু’ বলে আখ্যায়িত করেন, অন্য একাধিক নেতা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের কথাও বলেন প্রকাশ্যে।
সরকারি মুখপাত্র ডেভিড মেনসার এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ইসরাইল ফিলিস্তিনি জনগণ নয়, হামাস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইসরাইল যদি সত্যিই গাজা ধ্বংস করতে চাইত, তবে তারা দুই মিলিয়ন টনের বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দিত না।