রাশিয়ায় কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী অবকাশযাপনের শহর সোচির কাছে একটি তেল ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। এই ঘটনার পর সোচির কাছের বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করা হয়।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষ একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত করে, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ১২০ জনেরও বেশি দমকল কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
ড্রোন হামলায় শহরটিতে কমপক্ষে সাতজন বেসামরিক নাগরিক আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোচি শোধনাগারে ড্রোন হামলাটি ছিল সপ্তাহান্তে ইউক্রেনের চালানো বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার মধ্যে একটি, যা দক্ষিণ রাশিয়ার রিয়াজান, পেনজা এবং ভোরোনেজের স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ভোরোনেজের গভর্নর বলেছেন, একটি ড্রোন হামলায় চারজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেন এই হামলার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের জ্বালানি গ্রিডে রাশিয়ার ক্রমাগত বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ হিসেবে তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আসছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৯৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ৮৩টি ড্রোন এবং সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৬১টি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, ১৬টি ড্রোন এবং ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আটটি স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভে হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হয়েছিল।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেদিনের হামলায় ৩০০ টিরও বেশি ড্রোন এবং আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর থেকে রাজধানীতে সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণগুলোর মধ্যে একটি।
এই হামলার পর, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সপ্তাহে রাশিয়ার উপর আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন এবং মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন।
জুলাই মাসে, ট্রাম্প বলেছিলেন যে পুতিনের কাছে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ৫০ দিন সময় আছে, অন্যথায় রাশিয়া তার তেল এবং অন্যান্য রপ্তানির উপর কঠোর শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হবে।