আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নীতিতে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং কড়া ভাষার সমালোচনা রীতিমতো বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে নয়াদিল্লিতে। একইসাথে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার উপরেও অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের হুমকি দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এমন আচরণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার পূর্বঘোষিত ‘প্রকৃত বন্ধুত্বের’ সম্পর্কেও ফাটল ধরিয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর দেশের ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছে ২৫ শতাংশ। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে ভারতের সবচেয়ে বড় দুটি রপ্তানি খাত, ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক্স এবং ফার্মাসিউটিক্যালস মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রাথমিকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান দাবি করেছিল, স্মার্টফোন ও ওষুধ শুল্কের আওতার বাইরে। তবে শুক্রবার গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বলেছে, এসব পণ্যও শুল্কের আওতায় পড়ছে। ফলে ভারতের শেয়ারবাজার টানা দু’দিন ধরে নিম্নমুখী। দেশি-বিদেশি ব্যাংকগুলোও বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাব্য স্থবিরতা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার মধ্যে অন্যতম উচ্চহারে শুল্ক আরোপ ছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষা ছিল ভারতবিরোধী এবং অপমানজনক। ভারতকে বলা হয়েছে একটি ‘মৃত অর্থনীতি’, তাদের বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতাকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘বিরক্তিকর ও কঠিন’।
একই সঙ্গে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছিলো। তবে সেই হুমকি আমলে না নিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিপরীতে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প এবং তেল অনুসন্ধান চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ট্রাম্পের আচরণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার পূর্বঘোষিত ‘প্রকৃত বন্ধুত্বের’ সম্পর্কেও ফাটল ধরিয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিযোগ, ভারত বাণিজ্য আলোচনায় ‘ধীরগতির কৌশল’ নিচ্ছে। অথচ ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের দ্রুত সময়ের মধ্যে চুক্তি এবং ভারতের ধীর ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, এই দুই ভিন্নপথ দুই দেশের সম্পর্ককে ম্লান করতে পারে।
মেদভেদের হুমকির পর রাশিয়ার কাছে পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠালেন ট্রাম্প
ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগে এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প