জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে মাহমুদ আব্বাস

জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে, গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করে সেখানে ‘প্রাথমিক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। গোটা গাজা দখলের পরিকল্পনা হিসেবে এই হামলা শুরু করেছে ইসরাইল।

এ অভিযান শুরুর পরই হামাসের পাল্টা হামলায় এক ইসরাইলি সেনা নিহত, ১১ জন আহত এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে, শুক্রবারও গাজাজুড়ে হামলায় ছয়জন ত্রাণপ্রার্থীসহ অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। এছাড়া অনাহারে মারা গেছে দুই শিশুসহ অন্তত পাঁচজন। 

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই বছর ধরেই অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শুক্রবারও ভূখণ্ডটি জুড়ে রাতভর চালানো হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়। হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬৩ হাজার পেরিয়ে গেছে। 

এরই মধ্যে, গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটি দখলের ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ। গাজা সিটিকে রণক্ষেত্র ঘোষণা করে সেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতিও আর কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছে তারা। 

হামলার তীব্রতা বাড়ায় গাজা সিটি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন বাসিন্দারা। এমন অবস্থায়, দুর্ভিক্ষের কবলে পড়া গাজায় অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগেই গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন মানুষ না খেয়ে মরছে। তারা এতোই দুর্বল যে, এলাকা ছাড়তে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার শক্তি তাদের নেই। এ হামলা দ্রুত বন্ধ না করলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেবে উপত্যকাটিতে।

এরই মধ্যে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পিএ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলওর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া বেশ কয়েকজনের ভিসার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পিএলও ও পিএ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনার পথ এড়ানোর চেষ্টা করছে। 

এবারের অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও দেশটির প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নাও পারেন। 

আর, নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মেমো পেয়েছে। এতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসহ অন্যান্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে মার্কিন আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং ফিলিস্তিনি অথরিটির সদস্যদের ভিসা বাতিল এবং প্রত্যাখ্যান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শান্তি আলোচনায় গুরুতর অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আগে তাদের অবশ্যই সন্ত্রাসবাদকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং একটি কাল্পনিক (ফিলিস্তিন) রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি খোঁজা বন্ধ করতে হবে, যা ফলপ্রসূ নয়।