শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে হামাসকে সময়সীমা বেঁধে দিলেন ট্রাম্প

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ২০ দফা প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একে যুদ্ধের সমাপ্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়াকে ইসরাইল সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

এদিকে, গাজায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে ২০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে এখনও মতামত দেয়নি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন- হামাস। এতে বেজায় চটেছেন ট্রাম্প। হামাসকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, ফল ভালো হবে না। ট্রাম্প বলেছেন, গাজা শান্তি পরিকল্পনা একটি বিস্ময়কর ঘটনা। এই প্রস্তাব নিয়ে হামাসকে প্রতিক্রিয়া জানাতে তিন থেকে চার দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। 

হামাসকে ইতিবাচক জবাব দিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথায়, সব আরব দেশ রাজি। ইসরাইল রাজি। আমরা শুধু হামাসের জন্য অপেক্ষা করছি। হয় হামাস রাজি হবে, না হলে পরিণাম হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে, সেটি হবে খুবই উন্নত এক সম্ভাবনা। হামাস কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও কাতার জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি দায়িত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করছে গোষ্ঠীটি।

ফিলিস্তিনের একটি সূত্রও জানিয়েছে, হামাস এখনও মুখ না খুললেও, তারা আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। হামাস তাদের রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে। বিষয়টা জটিল। তাই কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং উপত্যকার বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তবেই প্রতিক্রিয়া জানাতে চায় হামাস। এর আগে সতর্ক অবস্থানেই থাকতে চায় গোষ্ঠীটি। 

সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে ২০ দফা পরিকল্পনার ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নিয়ে খুব শিগগিরই চুক্তি হবে। ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইল কখনও গাজা দখল করবে না। ঘরছাড়া হতে হবে না কাউকে। তবে হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, চুক্তি না মানে, ইসরাইল গাজা উপত্যকায় তার কাজ শেষ করেই আসবে।

ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রথমেই তাৎক্ষণিকভাবে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং সেখানকার বিদ্যমান যুদ্ধ রেখা অপরিবর্তিত থাকবে। পরিকল্পনার আওতায় গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ এবং তাদের আক্রমণাত্মক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত ২০ ইসরাইলি বন্দি এবং মৃত দুই ডজনেরও বেশি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিতে হবে।

এই বন্দিদের মুক্তির পর ইসরাইল শত শত বন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ প্রস্তাবে সম্মত হলে গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে পূর্ণমাত্রার সহায়তা পাঠানো হবে। 

যুক্তরাষ্ট্র গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার খসড়া পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, একটি অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটি অস্থায়ীভাবে গাজা শাসন করবে। আর, এই শাসন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করবে নতুন আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’। এই সংস্থার নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ আরও কয়েকজন নেতাও ‘বোর্ড অব পি‌সে’ থাকবেন বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।