রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের বিষয়ে সন্দিহান ইউক্রেনবাসী। তাদের মতে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধ হবে না। ট্রাম্প-পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠকেও সমাধান আসবে না বলে মনে করেন ইউক্রেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা।
এর আগে, জেলেনস্কির সাথে শুক্রবার বৈঠকে ভূ-খণ্ড বিনিময়ের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। এ বৈঠক ইঙ্গিত দেয়, ট্রাম্প আবারও যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি চাইছেন, এমনকি তা যদি কিয়েভের জন্য অগ্রহণযোগ্যও হয়।
হোয়াইট হাউজের মসনদে বসার পর থেকেই তড়িঘড়ি ইউক্রেন সঙ্কটের সমাধান চাইছিলেন ট্রাম্প। তবে কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও সমাধান খুঁজে বের করতে পারছেন না ট্রাম্প। যুদ্ধ বিস্তৃত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রায় ৪ বছরে গড়াতে যাওয়া যুদ্ধে এরইমধ্যে ইউক্রেনের অনেকটা জমি দখল করে ফেলেছে রাশিয়া। শুধুমাত্র দনবাসেরই ৭৮ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে চলে গেছে। এছাড়া খেরসন ও জাপোরিঝজিয়া অনেকটাই জায়গা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে আর নিজেদের ভূমি পুণরুদ্ধারে সবশেষ শুক্রবার হোয়াইট হাউজে বৈঠকে বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও জেলেনস্কি। অথচ সবশেষ বৈঠকে আবারও হতাশ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
তবে শুক্রবারের বৈঠক ইঙ্গিত দেয়, ট্রাম্প আবারও যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি চাইছেন, এমনকি তা যদি কিয়েভের জন্য অগ্রহণযোগ্যও হয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্পের কাছে দখলকৃত অঞ্চলগুলো না ছাড়ার শর্ত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এ প্রস্তাবে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা নেই ইউক্রেনের। এদিকে, ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন কূটনৈতিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।
তবে ট্রাম্পের বার্তায় বিশ্বাস নেই ইউক্রেনবাসীর। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান কিয়েভের সাধারণ মানুষ।
ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ মনে করেন, যুদ্ধ থামানোর একমাত্র উপায় রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। যদিও ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দফায় দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে রাশিয়া। এত নিষেধাজ্ঞাও পুতিনকে তার লক্ষ্য থেকে টলাতে পারেনি। তাই আদৌ যুদ্ধের অবসান হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।