পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি হামলা করেছে একে অন্যের ভূখণ্ডে। হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় তালেবানের ঘোর সমর্থক পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তান অচিরেই দ্বিপক্ষীয় উষ্ণতায় ফিরে আসবে বা ভুল–বোঝাবুঝির একেবারে অবসান হয়ে যাবে সে সম্ভাবনা কম, বলছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে এখন তালেবান সরকারকে একটি ‘শাসন’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তালেবান টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আফগান ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত থাকবে। অথচ এক সময় কাবুলে তালেবানের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে পাকিস্তানে উদযাপন করা হয়েছিল।
বর্তমানে কয়েকটি সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান। যেমন- খুঁড়িয়ে চলা অর্থনীতি, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সে সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
অর্থনীতির দুরবস্থার কারণে আফগানরাও ভুগছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবার মতো সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। মারাত্মক খাদ্যঘাটতি এবং মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আফগানরা কষ্ট পাচ্ছেন। কারণ, জাতিসংঘ-পরিচালিত সাহায্য সংস্থাগুলো তহবিল সংকটে পড়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এসব চ্যালেঞ্জকে আরও গভীর করতে পারে।
নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী। প্রযুক্তিগতভাবে তাদের উন্নত অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে এবং তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
১৯৮০-এর দশক থেকে পাকিস্তান লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, যাদের একটি প্রজন্ম পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে শিক্ষাদীক্ষা নিয়েছে এবং চাকরি–বাকরি ও ব্যবসা–বাণিজ্য করেছে।
অন্যদিকে, তালেবান নিজেদের বিজয়ী, যুদ্ধে পোড়খাওয়া যোদ্ধা হিসেবে দেখে থাকে। তারা বিশ্ব পরাশক্তির বিদেশি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও সফল যুদ্ধ করেছে। তাই, এক প্রতিবেশীর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভাব্য সংঘাত তাদের জন্য কেবল একটি ছোট মিশন ছাড়া আর কিছু নয়।
তা সত্ত্বেও স্থলবেষ্টিত একটি দেশ হিসেবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাণিজ্য রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা চলমান উত্তেজনার কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
ভবিষ্যতে পাকিস্তানি ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানের যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলা করার মতো তালেবান সরকারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার বা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব রয়েছে। পাকিস্তান সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও তালেবানেরও নিজস্ব হাতিয়ার রয়েছে, যা ইসলামাবাদকে আঘাত করতে পারে।
ল্যুভরের আগে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে যতসব বড় চুরি!