ভারতের গোয়ার জনপ্রিয় নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ -এ শনিবার রাতে যে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে গেল, সেই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। যে রাতে ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, সে সময় প্রায় ১০০ জন পর্যটক ক্লাবের বহুল জনপ্রিয় ‘বলিউড ব্যাঙ্গার নাইট’ উপভোগ করছিলেন।
উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকার এই ক্লাব থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বলিউডের হিট গান ‘মেহবুবা ও মেহবুবা’-এর তালে এক নৃত্যশিল্পী নাচছেন। আশেপাশে মিউজিসিয়ানরা ছিলেন এবং ভিড় আনন্দে উল্লাস করছিল।
হঠাৎ নৃত্যশিল্পীর পেছনের কনসোল থেকে শিখা দেখা যায়। ক্লাবের দুই কর্মী দ্রুত কনসোলের দিকে ছুটে যান এবং আগুন লাগার জায়গা থেকে একটি ল্যাপটপ সরিয়ে নেন। প্রথমে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যায়নি। এমনকি কেউ কেউ নৃত্যশিল্পীর প্রশংসায় বলে ওঠেন, আগ লাগা দি আপনি।
কিন্তু তখন তারা কেউই বুঝতে পারেননি যে আসলেই আগুন লেগে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে, মিউজিসিয়ানরা তাদের বাদ্যযন্ত্র ফেলে সুরক্ষার জন্য সরে যান। মুহূর্তের মধ্যে নৃত্যশিল্পী, কর্মীরা এবং ভিড়ের সবাই বাইরে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করে। আগুন তখন দ্রুত সিলিংয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
পরের কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন পুরো নাইটক্লাবটিকে গ্রাস করে ফেলে, যার ফলে ২৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয়জন আহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্লাবের সংকীর্ণ প্রবেশ ও নির্গমনের পথটি আগুন লাগার পর বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেকে পালাতে সক্ষম হলেও, কিছু পর্যটক স্টাফদের সাথে নিচের রান্নাঘরের দিকে চলে যান এবং সেখানে আটকা পড়েন।
উদ্ধার কাজে বাধা। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, নাইটক্লাবে যাওয়ার রাস্তাগুলো ফায়ার ইঞ্জিন ঢোকার জন্য যথেষ্ট চওড়া ছিল না। ফলে ফায়ার ইঞ্জিনগুলিকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পার্ক করতে হয়েছিল, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তোলে।
নিহতদের বেশিরভাগই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন, এবং বাকিরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা গোয়াতে প্রথম ঘটল।
তিনি বলেন, আমার প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে আগুন উপরের তলা থেকে শুরু হয়েছিল। যেহেতু দরজাগুলো খুব সংকীর্ণ ছিল, তাই অনেকে পালাতে পারলেও, আগুন তীব্র হওয়ার পর অন্যরা বের হতে পারেনি। যারা মাটির নিচের দিকে চলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই যথাযথ ভেন্টিলেশন না থাকার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান।
রাজ্য সরকার নিবিড় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার এবং মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তদন্তে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা হবে যে অগ্নিনিরাপত্তা এবং নির্মাণসংক্রান্ত নিয়মাবলি মানা হয়েছিল কিনা।