মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত সামরিক হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে কড়া পদক্ষেপের জেরে ট্রাম্পের ‘হস্তক্ষেপের’ বার্তার পর, তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো মার্কিন হামলার জবাবে পুরো অঞ্চলকে ‘আগুনে জ্বালিয়ে’ দেওয়া হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ মঙ্গলবার এক অত্যন্ত কঠোর বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো হঠকারী পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরান পুরো অঞ্চলে আগুনের দাবানল জ্বালিয়ে দেবে। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলি ভূখণ্ড হবে ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। মূলত মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে চাপের মুখে রাখতেই তেহরান এই বার্তা দিয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আবদুর রহিম মুসাভি এই অস্থিরতার জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে বলেছেন, ইরান আগে কখনো এই মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়নি।
পিছু হটছে মার্কিন কর্মীরা: নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বুধবার নিশ্চিত করেছেন যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সতর্কতা হিসেবে কিছু ঘাঁটি থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তিনজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, কাতারে অবস্থিত অঞ্চলের প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটি থেকে কর্মীদের চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যদিও গত বছরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগের মতো বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযান এখনো শুরু হয়নি, তবে একে ‘কৌশলগত সতর্কতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ সংকট: গত দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরাসরি ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। একে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবথেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
নিহতের সংখ্যা: ইরানের একজন কর্মকর্তার মতে নিহতের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়েছে, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি এটি ২,৬০০-এর বেশি। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট একে ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের সবথেকে সহিংস দমন-পীড়ন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নিশানা যখন প্রতিবেশী রাষ্ট্র: ইরান সরকার তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে (সৌদি আরব, ইউএই, তুরস্ক) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ভূমি ব্যবহার করে কোনো মার্কিন হামলা চালানো হলে সেই দেশগুলোর মার্কিন স্থাপনাগুলোও রেহাই পাবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলছেন- ‘সাহায্য আসছে’, তখন তেহরান বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখতে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করছে।
বিক্ষোভে টালমাটাল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং বহিঃশক্তির সামরিক হুমকির মুখে ইরান এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। একদিকে জনগণের ক্ষোভ, অন্যদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান- সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল অগ্নিকুণ্ডের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।