ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন- ‘সাহায্য আসছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তখন ওয়াশিংটন হামলা চালালে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিবরণ নিচে দেয়া হলো:-
বাহরাইন: এখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের একাংশে নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব এই ফ্লিটের ওপর ন্যস্ত।

কাতার: রাজধানী দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিটি প্রায় ২৪ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর, যেখান থেকে পশ্চিমে মিশর থেকে শুরু করে পূর্বে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিশাল এলাকার সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এই মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা অবস্থান করে। গত জানুয়ারিতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এখানে একটি নতুন সমন্বয় সেল খোলা হয়েছে।
কুয়েত: দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প আরিফজান হলো ইউএস আর্মি সেন্ট্রালের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর। এছাড়া ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিটি ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্প বুহেরিং মূলত ইরাক-সিরিয়ায় মার্কিন সেনা ইউনিটের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পুরো অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। এছাড়া দুবাইয়ের জাবেল আলি বন্দরটি আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি না হলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচে বড় যাত্রাবিরতি কেন্দ্র, যেখানে নিয়মিত মার্কিন রণতরি অবস্থান করে।

ইরাক: দেশটির আনবার প্রদেশে অবস্থিত আইন আল আসাদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই ঘাঁটিতেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এরবিল বিমান ঘাঁটিটি প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
সৌদি আরব: ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ২,৩২১ জন মার্কিন সেনা রয়েছে। রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে মূলত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং ‘থাড’- এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
জর্ডান: রাজধানী আম্মান থেকে ১০০ কিমি উত্তর-পূর্বে আজরাক এলাকায় অবস্থিত মুওয়াফফাক আল সালতি বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৩২তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইংয়ের আস্তানা। এখান থেকে লেভান্ত (সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডান পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) এলাকায় সামরিক মিশন পরিচালনা করা হয়।
তুরস্ক: দেশটির আদানা প্রদেশে ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিটি তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে পরিচালনা করে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে এবং এটি ইরাক ও সিরিয়ায় আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোট বাহিনীর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১,৪৬৫ জন মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বড় বিক্ষোভের পরও কেন টলানো যাচ্ছে না খামেনি প্রশাসনকে?
হামলা হলে জ্বলবে মার্কিন ঘাঁটি, তেহরানের চরম হুঁশিয়ারি