গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী মিত্র দেশগুলোর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ার পর, করণীয় ঠিক করতে রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতরা একটি জরুরি বৈঠকে বসছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে গ্রিনল্যান্ডবাসী এবং ডেনমার্কের নিজস্ব ব্যাপার। তিনি আরও যোগ করেন, ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিত নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করার কারণে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। স্টারমার স্পষ্ট জানান, যুক্তরাজ্য এই বিষয়টি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা করবে।
চলতি সপ্তাহে একটি গঠনমূলক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিবৃতি ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুল্কের এই হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা হুমকি আমাদের প্রভাবিত করতে পারবে না।
সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেছেন, ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের ব্ল্যাকমেইল হতে দেবেন না এবং তিনি ট্রাম্পের এই হুমকিকে সামগ্রিকভাবে ইইউ ইস্যু হিসেবে অভিহিত করেছেন। ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল জানান, দেশ নতুন শুল্কের বিষয়টি নজরে নিয়েছে এবং তারা সম্মিলিতভাবে এর জবাব দেয়ার কথা বিবেচনা করবে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন, মিত্রদের মধ্যে যে কোনো সমস্যা চাপের মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা শ্রেয়। এছাড়া নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোর স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে হুমকির কোনো স্থান নেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহের শেষের দিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেবেন- যেখানে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানরাও উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের সাথে যোগ দেবেন কানাডা, স্পেন এবং বেলজিয়ামের মতো ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশগুলোও।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ার পরপরই এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, দাভোস একটি বার্ষিক আয়োজন যেখানে বিশ্বনেতারা এবং শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
আগামী বুধবার ট্রাম্প এই ফোরামে ভাষণ দেবেন, যার প্রতিপাদ্য হলো- একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?। নিঃসন্দেহে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ফ্রিডরিখ মার্জ এবং উরসুলা ফন ডার লিয়েনের মতো নেতারা এই বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।