ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী জুন মাসের মধ্যেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে দুই পক্ষকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইউক্রেন তাতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, আমেরিকা প্রথমবার প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন-রাশিয়ার প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বৈঠকে বসবে। যদিও ওয়াশিংটন বা মস্কোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এই যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিয়ে আসছেন।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কোনো বড় ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর জেলেনস্কি এই তথ্য জানান। তিনি স্বীকার করেন, ইউক্রেনের ওপর আঞ্চলিক ছাড় দেয়ার যে চাপ রয়েছে, সেই কঠিন বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত। তবে এবারই প্রথম প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার বদলে সরাসরি শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার বিধ্বংসী হামলা
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলা কমেনি। জেলেনস্কি জানান, শুক্রবার রাতে রাশিয়া চার শতাধিক ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় দোব্রোতভির ও বুরশতিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ‘উকরেনারগো’ জানিয়েছে, এই হামলার ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুতের ঘাটতি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও হিটিং সেবা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিস্থিতির সামাল দিতে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডের কাছে জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তার আবেদন করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার হামলার জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার তভার অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জ্বালানি তৈরির কারখানা এবং সারাতোভ অঞ্চলে একটি তেল ডিপোতে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এ সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, বিবিসি’র তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন দীর্ঘস্থায়ী শান্তির বিষয়ে আন্তরিক নয়। সম্প্রতি রাশিয়ার একজন উচ্চপদস্থ জেনারেলকে গুলি করার ঘটনায় ইউক্রেনকে দায়ী করে তিনি বলেন, এটি মূলত আলোচনা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল। তবে ওই হামলার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কে ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়া যেন ঠান্ডাকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এখন সবার নজর আগামী সপ্তাহের মিয়ামি বৈঠকের দিকে, যা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সূত্র: বিবিসি