গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের গুঞ্জনের মধ্যেই এই তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধির মহড়া চলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরাইল সফর: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইল সফরের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। যদিও সফরের সময়সূচী নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে তা সোমবার পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সূচী পরিবর্তনশীল।
ইসরাইলে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রসদ সরবরাহ: ইসরাইলের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দর, বেন গুরিয়নে গত ২৪ ঘণ্টায় অসংখ্য মার্কিন রিফুয়েলার এবং কার্গো বিমান অবতরণ করতে দেখা গেছে। ওপেন-সোর্স অ্যানালিস্টদের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫টির বেশি ফুয়েল ট্যাঙ্কার এবং ১৭০টির বেশি কার্গো বিমান এই অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার প্রেক্ষাপটেই এই বিশাল প্রস্তুতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমুদ্রে শক্তির মহড়া: বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড' গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে-তে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। রয়টার্সের ফুটেজে দেখা গেছে, রণতরীটি বর্তমানে রসদ সংগ্রহের জন্য গ্রিসের নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে, যেখান থেকে এটি দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যোগ দিতে পারবে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও দ্বিমুখী অবস্থান: এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় সুর প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত পাওয়া গেছে। তবে তিনি একইসাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান মার্কিন তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি: ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তাদের প্রধান বিমানবন্দরে মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ট্যাঙ্কার এবং কার্গো বিমানের উপস্থিতি একটি বড় ধরনের অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হতে পারে।