গেলো বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের তুলনায় ইরান বর্তমানে সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে দাবি করেছেন, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি ইরান পুনরায় আক্রান্ত হয়, তবে তারা আবারও ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি স্বীকার করেন, বিগত যুদ্ধে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, তবে তার মতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নিশ্ছিদ্র ছিল না। তিনি দাবি করেন, গত জুন মাসের যুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাইল আকাশসীমায় যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখলেও, ইরান তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পাল্টা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
সাক্ষাৎকারে আরাগচি আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, ১২ দিন স্থায়ী সেই যুদ্ধের পর ইসরাইল নিজেই নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল, কারণ তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করতে পারছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে এবং বর্তমানে তাদের এই সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক উন্নত।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুন মাসের সেই ১২ দিনের যুদ্ধে ছয়টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল। এছাড়া আরও ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি ও মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। সেই সময়কার ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান অনুযায়ী, ৩২ জন ইসরাইলি নাগরিক প্রাণ হারান এবং প্রায় ২,৩০৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি হাসপাতালেও আঘাত হেনেছিল এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো, যার ফলে ১৩,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নতুন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
