ইউরোপের ছোট্ট দেশ আইসল্যান্ডে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড আলাদা করে পাথরে পরিণত করার সবচেয়ে বড় প্ল্যান্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতি বছর বাতাস থেকে চার হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করা যাবে প্ল্যান্টটির মাধ্যমে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
আইসল্যান্ডের ওরকা প্ল্যান্ট। চার ইউনিটের এ প্ল্যান্টে আটটি ধাতব বাক্স রয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার সাহায্যে এসব বাক্সে বাতাস ভরা হয়। তাপ দিয়ে বাতাস থেকে আলাদা করা হয় কার্বন ডাই অক্সাইড। তারপর কার্বন ডাই অক্সাইডকে পানিতে মিশিয়ে পাথরের মতো বানিয়ে, মাটির নিচে কয়েক হাজার বছর নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয়।
যৌথভাবে আইসল্যান্ডের কার্বফিক্স আর সুইজারল্যান্ডের ক্লাইমওয়ার্কের তৈরি এ প্ল্যান্ট নির্মাণে এক হাজার পাঁচশ' কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। এ প্রযুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: ডেল্টাকে রুখতে ফাইজারকে পেছনে ফেলছে মর্ডানা
গত বছর সারা বিশ্বে তিন হাজার একশ' ৫০ কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়েছে। আর আইসল্যান্ডের ওরকা প্ল্যান্টে, বাতাস থেকে বছরে মাত্র চার হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড আলাদা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ না হলে তীব্রতর হতে থাকা জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। সোলার প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, গ্রিন হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এ প্রযুক্তি থেকে অনেক বেশি কার্যকর বলেও মত তাদের।
সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড আলাদা করার এ প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রায় চূড়ান্ত ধাপে। তবে ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে বিশ্বে এই ধরনের মাত্র ১৫টি প্রকল্প চালু রয়েছে।
একাত্তর/এসজে