সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সেনা শিবিরে হুথিদের হামলা, নিহত ৫৮

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ সরকারি সেনা নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির মধ্যাঞ্চল ও সৌদি সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে চালানো এ হামলাকে ২০২২ সালের পর দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে হুথিরা একদিকে সরকারপন্থী বাহিনীর ওপর, অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রধান সমর্থক সৌদি আরবের দিকেও হামলা জোরদার করেছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের সহায়তায় সরকারি বাহিনী সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর জবাব হিসেবে বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একাধিক সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক সূত্র জানায়, এসব হামলায় অন্তত ৫৮ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। এর আগে হাসপাতাল সূত্রগুলো ৩৮ জন নিহতের তথ্য দিয়েছিল।

সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এলাকায় একটি সেনা শিবিরে সকালের কুচকাওয়াজ চলাকালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এছাড়া সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউতের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকার সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়। 
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সামরিক কর্মকর্তা জানান, কেবল মারিবের হামলাতেই অন্তত ৪৫ জন সেনা হতাহত হয়েছেন।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, আল-রুওয়াইক, আল-থানিয়াহ ও আল-আবর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যে কোনো ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।

এ হামলার পর ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী যথাসময়ে এর জবাব দেবে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবেও পড়েছে। সৌদি কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার হুথিদের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। 

তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষায় জোট বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে গেলে নতুন করে লড়াই শুরু হয়।

এরপর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি সমুদ্রবন্দর অবরোধ এবং তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের হোদেইদাহ বন্দরের দক্ষিণে সরকারপন্থী বাহিনীর ওপর হুথিদের হামলায় ১৬ সেনা নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছিল চিকিৎসা সূত্র।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেন সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ এই যুদ্ধে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। বর্তমানে হুথিরা রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, আর সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।