জার্মানি আবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সতর্ক করলেন লাভরভ

জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করার জার্মান অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অভিযোগ কার্যত একটি ‘প্রকৃত যুদ্ধের সূচনা’ হতে পারে।

স্থানীয় সময় রোববার রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

লাভরভ বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস জার্মানিকে আবারও ইউরোপের প্রধান সামরিক শক্তিতে পরিণত করার যে কথা বলছেন, তা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, মেরৎসের এসব পদক্ষেপ কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

লাভরভ আরও দাবি করেন, লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়াকে দায়ী করার আগে ড্রোনটির প্রকৃত মালিকানা বা উৎস যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি।

মস্কোর অভিযোগ, রাশিয়াকে ফাঁসাতে জার্মানি ঘটনাস্থলে প্রমাণ সাজিয়েছে। তবে জার্মানি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

কী ঘটেছিল লিপজিগ বিমানবন্দরে?

গত মাসে জার্মানির লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি ড্রোনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

জার্মান কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল এবং এটি বিমানবন্দরের কাছে পাওয়া যায়। তদন্তের পর ১ সেপ্টেম্বর জার্মান সরকার ঘোষণা করে, ওই ঘটনার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে।

জার্মানির এই সিদ্ধান্তের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয় বার্লিন। এর মধ্যে বন শহরে রুশ কনস্যুলেট এবং বার্লিনে একটি রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ করার সিদ্ধান্তও ছিল। জার্মানি আরও রুশ নাগরিকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস পরে বলেন, রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জার্মান সরকারের সিদ্ধান্ত ‘স্পষ্ট ও আইনগতভাবে যথাযথ’। তিনি মস্কোকে এ ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ অব্যাহত না রাখারও সতর্কবার্তা দেন।

পাল্টা ব্যবস্থা মস্কোর

বার্লিনের পদক্ষেপের জবাবে মস্কোও কঠোর অবস্থান নেয়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ এর আগে জানিয়েছিলেন, জার্মানির গোয়েথে ইনস্টিটিউটের রাশিয়ায় থাকা শাখাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও জার্মানির বিরুদ্ধে লিপজিগের ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করার জন্য প্রমাণ সাজানোর অভিযোগ তুলেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যও জার্মানির পাশে দাঁড়িয়ে রুশ কূটনীতিককে তলব করে লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও ঘটনাটিকে গুরুতর ‘হাইব্রিড’ হুমকি হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে।

জার্মানিতে বাড়ছে নিরাপত্তা প্রস্তুতি

লিপজিগের ঘটনার পর জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। 

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট জানিয়েছেন, ড্রোন হামলা ও সাইবার আক্রমণসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ‘অ্যান্টি-সাবোটাজ শিল্ড’ বা ‘সাইবারডোম’ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনার আকাশসীমা সুরক্ষায় দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ড্রোন প্রতিরোধ ইউনিটও বাড়ানো হবে।

জার্মান সরকারের ভাষ্য, রাশিয়ার কথিত হাইব্রিড হামলার ঝুঁকি এখন দেশটির দৈনন্দিন নিরাপত্তার অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে মস্কো বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফলে লিপজিগ বিমানবন্দরের ড্রোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তলানিতে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লাভরভের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই উত্তেজনাই আরও স্পষ্ট হয়েছে। পশ্চিমা অভিযোগকে তিনি শুধু প্রত্যাখ্যানই করেননি, বরং জার্মানির সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাতের পূর্বাভাস হিসেবে তুলে ধরেছেন।