চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো স্পর্শকাতর মার্কিন অস্ত্র ভাণ্ডারে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে, গণমাধ্যমে এমন গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে এই প্রথম গোপন তথ্য ফাঁসের অপরাধীকে চিহ্নিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও যৌথ বাহিনীর বেসামরিক কর্মচারীর ওপর গণ-পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর বা মিথ্যা শনাক্তকরণ) পরীক্ষা চালানো হয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগস্ট মাসে মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি এই পলিগ্রাফ টেস্ট পরিচালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করা এবং প্রতিরক্ষা পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বার্তা ফাঁসের প্রবণতা বন্ধ করা। ঘটনাটির বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল স্পষ্ট করে জানান, পেন্টাগন অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা কর্মী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেন্টাগনে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে সীমিত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মে মাসের পর থেকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করেননি। এমনকি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজের ভেতরের শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করার জেরে সামরিক সংবাদপত্র 'স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস'-এর প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন, প্রকাশক ম্যাক্স লেডারার এবং মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি লারা কোর্তেকে চাকরিচ্যুত করেছে পেন্টাগন।
অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার খালি হয়ে যাওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে ট্রাম্প তথ্য ফাঁসকারী ও সমালোচকদের 'দেশদ্রোহী আবর্জনা' বলে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সহজেই জিতছে এবং মার্কিন বাহিনীকে পরাজিত দেখতে চাওয়া গোষ্ঠীগুলোই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যম ও উচ্চমানের গোলাবারুদের 'সীমাহীন' মজুদ আমেরিকার কাছে রয়েছে এবং মার্কিন সামরিক কারখানাগুলোতে এখন নজিরবিহীন গতিতে নতুন অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে।
